করতির খালের উপর বাঁশের সাকো তৈরীর করে দুই গ্রামের যোগাযোগের নতুন যুগের সুচনা করলেন গ্রামবাসী। নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুর আদলে তারা বাঁশের সাকো নির্মাণ করে দৃষ্ঠান্ত স্থাপনের পাশাপাশি দূর করলেন দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ভোগান্তির। একই সাথে গ্রামবাসীর দাবি- করতির খালে উপর স্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দুর্ভোগ লাঘব করতে দায়িত্বশীলরা এগিয়ে আসবেন।

বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ফুলমলিক-চন্দ্রগ্রামকে বিভক্ত করে রেখেছিল করতিরখাল। ইউনিয়নের ফুলমলিক গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে খালের উপর গ্রামীবাসী দেড়শত ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাকো নির্মাণ করে অসাধ্যকে সাধন করেছেন। নির্মিত বাঁশের এ সাকো দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করবে অটোরিক্সাসহ ছোট যানবাহন। গ্রামবাসী বাঁশ দিয়ে তৈরী সাকোর নাম দিয়েছেন ‘বাঁশের ব্রিজ’।

শুক্রবার বিকালে গ্রামবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁশের সাকো উদ্বোধন করা হয়। ফুলমলিক গ্রামবাসীর আয়োজনে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাসেম পল্লব। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আতাউর রহমান খান, বিশেষ অতিথি ছিলেন আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুন, উপজেলা আওয়া্মী লীগের সাবেক সহ সভাপতি হারুন হেলাল চৌধুরী ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বাবুল, আলী নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান, ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, লাউতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন, আলী নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মারুফ আহমদ, আবু বক্কর পাখি ও রফিক উদ্দিন বাছনসহ আরো অনেকে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছাদেক আহমদ চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী জুবের আহমদসহ উভয় গ্রামের জনসাধারণ।

ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্ঠায় অনেক অসম্ভব কাজকে খুব সহজে সম্ভব করা  যায়। সেটি করে দেখালেন ফুলমলিক গ্রামবাসী। খালের উপর নির্মিত বাঁশের সাকো দিয়ে এখন চলবে সিএনজিসহ ছোট যানবাহন। গ্রামের মানুষ এতোদিন পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হতো। এখন থেকে জরুরী প্রয়োজনে নিজ গ্রাম থেকে অটোরিক্সা, রিক্সা কিংবা মোটরসাইকেল নিয়েও যেতে পারবেন। সেই সুযোগ তৈরী হয়েছে বাঁশের সাকো নির্মাণের পর।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারে গ্রামবাসীর নির্মিত বাঁশের সাকো দিয়ে চলবে যানবাহন