বিয়ানীবাজারে বন্যার পানিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ ৬৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। বন্যার পানিতেবিদ্যালয় তলিয়ে যাওয়ায় এবং যাতায়াত রাস্তা ও মাঠ ডুবে যাওয়ায় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বন্যায় উপজেলার ১৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়া বিদ্যালয় যাতায়াত সড়ক ও মাঠ তলিয়ে গেছে আরও ২৭টির। যার কারণে ৪০টি বিদ্যালয় সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে সেগুলোতে বন্যার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে আজ রবিবার পর্যন্ত ৬টি বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়টি মাদ্রাসাও বন্ধ রয়েছে। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে সেখানে বন্যার প্রভাবে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি একেবারে কম।

গত সোমবার থেকে কুশিয়ারা নদীর ৫টি অংশের ডাইক ভেঙ্গে তলিয়ে যায় উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা। এ পর্যন্ত ৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা প্লাবিত হওয়ায় তলিয়ে গেছে দুর্গত এলাকার বাড়িঘর, রাস্তা-ঘাট। প্রায় ১৫টি হাটবাজার বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। গত শনিবার সোনাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে নদী তীরবর্তী শানেশ্বর বাজার ও আশপাশ এলাকায়।

দুর্গত এলাকায় শনিবার থেকে ত্রাণ বিতরণ করছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার উপজেলার দুবাগ ও মুড়িয়া ইউনিয়নসহ বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়। সরকারি ত্রাণের বিতরণের পাশাপাশি এবার বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ না হওয়ায় দুর্গত এলাকায় হাহাকার দেখা দিয়েছে। বেসরকারিভাবে এখন পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাসিব মনিয়া ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করেন।

অথচ বিগত সময়ে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণে কারণে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজনকে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। এবার বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ না হওয়ায় দুর্গত এলাকার দুর্ভোগ চরমে রয়েছে।

মুড়িয়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গাদিয়া-বড়দেশ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সাময়িক বন্ধ ঘোষণার কথা জানান বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হুমায়ুন কবির।

উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুম মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ে ভেতরে পানি ও রাস্তা ঘাট এবং মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অঘোষিত বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি নেমে গেলে যথারীতি পাঠদান শুরু হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করার খবর আমাদের কাছে রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য নিদের্শ দেয়া আছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু: আসাদুজ্জামান বলেন, দুর্গত এলাকা শনিবার থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। আমরা যোগাযোগ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় বিকল্প বাহন ব্যবহার করতে হচ্ছে। তিনি বন্যাপীড়িত এলাকারবাসীর সহযোগিতায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।