কুশিয়ারা নদীতে বন্যা পানির বৃদ্ধি না পেলেও পানি বন্ধি এলাকার সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলার কুড়ারবাজার, শেওলা, দুবাগ ইউনিয়নের সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্ধি হয়ে পড়েছেন। ৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ১০২টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। সিলেট-বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের মেওয়া, আঙ্গারজুর, তেরাদল ও বৈরাগীবাজার এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কে গত এক সপ্তাহ থেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সরকারি ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানান ক্ষতিগ্রস্থরা। আশ্রয় কেন্দ্রে ভাইরাস জ্বরে আকান্ত লোকজনের সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১৬টি ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিম আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়েছে। এ পর্যন্ত ৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে নারী, পুরুষ ও শিশু পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

কুড়ারবাজার ইউনিয়নের খশির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মাসুম আহমদ ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিমে রোগীদের সেবা প্রদান করেন। এ টিম থেকে আক্রান্ত ঔষধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট প্রদান করা হয়। ডাক্তার মাসুম জানান, ৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু পাওয়া গেছে। ডায়রিয়া ও ভাইরাস জ্বর আক্রান্ত আরও ১৩জন নারী-পুরুষকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

খশির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে আমির উদ্দিনের কন্যা (৭), আমির উদ্দিন, আব্দুল করিম ময়নাসহ নিউমোনিয়া ও ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের ঔষদ প্রদান করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ উপজেলার দুবাগ, শেওলা, কুড়ারাবাজার ইউনিয়ন ও পৌরসভার আংশিক এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বন্যা দুর্গত এলাকায় পর্যান্ত ত্রাণ সহায়তা প্রদান করতে সংশ্লিষ্টদের নিদের্শ দিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ এলাকায় ৪ কোটি টাকা নগদ অর্থ ও ৩ কোটি টাকার জি আর চাল বরাদ্ধ করার বিষয়টি দুর্গত এলাকার মানুষদের অবহিত করেন।

সরেজমিনে কুড়ারবাজার ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের রামনগর, খশির নোয়াগাও, পাঠনী পাড়াসহ বেশ কিছু এলাকায় প্রায় তিনশত পরিবার পানিবন্ধি রয়েছেন। এসব এলাকার যোগাযোগ সড়ক তলিয়ে যাওয়া লোকজন নৌকা যোগে জরুরী প্রয়োজনে সারছেন। ঘরের ভেতরের পানি উঠে যাওয়ায় খাটের উপর অস্থায়ী চুলায় গৃহিনীরা রান্না করছেন।
কুড়ারাবাজার ও লাউতা ইউনিয়নে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্যা দুর্গতদের এলাকা সরকারি ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। কুড়ারবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের জানান, ইউনিয়নের বন্যা কবলিত ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের আড়াই শতাধিক পরিবারের মধ্যে আজ বুধবার ত্রাণ বিতরণ করা হবে।