আহমেদ ফয়সাল। ০৭ জানুয়ারি ২০১৭।

প্রথম বারের মতো বিয়ানীবাজার উপজেলায় প্রবাসী রেমিটেন্স হাজার কোটি টাকার ছাড়িয়েছে। ২০১৬ সালে এ উপজেলার প্রবাসীরা দেশে এক হাজার কোটি টাকার বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। যা ২০১৫ সালের বছরের চেয়ে ২শত কোটি টাকার বেশি। রেমিটেন্স বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যাংকগুলোর শাখা ব্যবস্থাপকরা মনে করেন, প্রবাসীরা অবৈধ পথে (হুন্ডি) টাকা না পাঠিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে এখন বেশি নিরাপদবোধ করছেন। ব্যাংকিং মাধ্যম প্রবাসীদের কাছে আস্থা অর্জন করায় এ উপজেলায় প্রবাসী রেমিটেন্স ২০ শতাংশ বেড়েছে। সরকারি ব্যাংকগুলোর চেয়ে প্রবাসীরা বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে অনেক বেশি রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন।

ব্যাংকের শাখা সূত্রে জানা যায়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে এ উপজেলায় ইংল্যান্ডের অবস্থান সব সময় ভাল থাকলে সদ্য গত হওয়া বছরে ইংল্যান্ড থেকে আশানুরূপ রেমিটেন্স আসেনি। বেস্টিক্সের কারণে ইংল্যান্ড প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠানোর পরিমান কমিয়ে দিয়েছেন। তবে বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমান। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব ও আবর আমিরাত থেকেও প্রবাসীরা উল্লেখ্যযোগ পরিমান রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন।

বিয়ানীবাজার পৌরশহরে ব্যাংক এশিয়ার স্থানীয়র শাখার মাধ্যমে ২০১৬ সালে রেমিটেন্স আসে ১শ’ ৯৮ কোটি ৫০ লাখ ৮৫ হাজার টাকার বেশি। যা ২০১৫ সালের চেয়ে ৫৩ কোটি টাকা বেশি। ১০ কোটি টাকা বেড়ে গত বছর ইসলামি ব্যাংক বিয়ানীবাজার শাখায় প্রবাসী রেমিটেন্স আসে  ১শ’ ৬০ কোটি ৪২লাখ টাকার বেশি। পূবালী ব্যাংক ৬০ কোটি, ট্রাস্ট ব্যাংক ৩৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, সাউথ ইস্ট ২৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ২১ কোটি, ব্র্যাক ব্যাংক ২০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, মার্কেন্টাইল ব্যাংক সাড়ে ১৭ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংক ১৭ কোটি, সোনালী ব্যাংক ১১ কোটি ৯৫ লাখ, অগ্রণি ব্যাংক ১০ কোটি ১৮ লাখসহ অবশিষ্ট ব্যাংকের ৩২টি শাখা মিলিয়ে ২০১৬ সালে এক হাজার কোটি টাকার বেশি প্রবাসী রেমিটেন্স এসেছে।

ব্যাংক এশিয়ার শাখা ব্যাবস্থাপক রাজ নারায়ন সেন টিটু বলেন, প্রবাসীরা ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বেশি উৎসাহিত হওয়ায় এবার (২০১৬) সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এখানে এসেছে। মুলত হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর চেয়ে প্রবাসীরা ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠানো নিরাপদ ও সহজতর হওয়ায় এ মাধ্যম বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, এখনো প্রবাসীদের ৩০ শতাংশ রেমিটেন্স ভিন্ন মাধ্যমে আসছে। এ অবৈধ মাধ্যম বন্ধ হলে আগামীতে আরও বেশি পরিনাম রেমিটেন্স আসবে।

পুবালী ব্যাংকের শাখা ব্যাবস্থাপক মোহাম্মদ আলম ভূঁইয়া বলেন, ২০১৬ সালে প্রবাসী রেমিটেন্স ২০ শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, ইংল্যান্ড থেকে রেমিটেন্সের পরিমান কমে গেলেও অপ্রত্যাশিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রেমিটেন্স বেড়েছে।