ট্রি হাউস বা গাছবাড়ির প্রচলন দেখা যায় ইউরোপ-অ্যামেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে৷ মূলত গাছের সঙ্গে লাগোয়া অথবা গাছের উপরিভাগের অংশে এসব ঘর তৈরি করা হয় কিশোর-কিশোরীদের খেলাধুলা কিংবা প্রাপ্তবয়স্কদের মনোরঞ্জন ও আনন্দঘন সময় অতিবাহিত করতে। এমনই একটি ট্রি হাউস রয়েছে প্রবাসী অধ্যুষিত বিয়ানীবাজার উপজেলার মোল্লাপুর ইউনিয়নের কটুখালিরপার গ্রামে। ওই গ্রামের বাসিন্দা যুক্তরাজ্য প্রবাসী জিল্লুর রহমান খান নিজের বাড়ির আঙিনার এক কোণে মাটি থেকে ২০ ফুট ওপরে গাছের মধ্যে নির্মাণ করেছেন একটি কাঠের ঘর।

ঘরটির দৈর্ঘ, প্রস্থ ও উচ্চতায় সব দিক থেকে ১০ ফুট করে। ঘরটিতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচলের জন্য রয়েছেন একটি দরজা ও তিনটি জানালা। ঘরে ডুকতে হয় কাঠের তৈরি সিঁড়ি বেয়ে। দুর্যোগ সহনীয় এই ট্রি হাউসটি তৈরিতে খরচ হয়েছে লক্ষাধিক টাকা। ট্রি হাউসের জানালাগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে বাইরের দিকে তাকালেই দেখা যাবে প্রকৃতির নয়নাভিরাম দৃশ্য। যা মুহূর্তেই প্রফুল্ল করে তুলবে মানুষের মনকে।

বাড়ির বাসিন্দারা সকলেই যুক্তরাজ্যে বাস করেন, আর বাড়িটি দেখাশুনা করেন আব্দুল বাতেন নামে এক বৃদ্ধ। তিনি জানান, যুক্তরাজ্য থেকে ছুটিতে দেশে আসলে বাড়ির লোকজন বিকাল ও সন্ধেবেলায় গাছের এই ঘরটিতে বসে সময় কাটান, গল্পগুজব করেন।

গ্রামের শেষ সীমানায় বাড়িটির অবস্থান হওয়ায় ট্রি হাউসটি অনেকেরই অজানা রয়েছে। তবুও মাঝে মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় থেকে মানুষজন এখানে এসে সময় কাটান, ছবি তুলেন। বাড়িটির দক্ষিণ পাশে একটি পুকুর খনন করা হচ্ছে। আঙিনায় রোপন করা হয়েছে নানা জাতের ফুল ও ফলের গাছ। পুরো বাড়িতে চোখ বুলালে মনে হবে প্রবাসী জিল্লুর রহমান খান বাড়িটিকে দৃষ্টিনন্দন বাগানবাড়িতে রূপ দিতে চেষ্টা করছেন।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারে গাছের উপরে দৃষ্টিনন্দন কাঠের ঘর