বিয়ানীবাজারে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে নাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ বছর উপজেলার ২৩টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা সরকারি নির্দেশ মেনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ দিন বিজয়া দশমীতে সন্ধ্যার নামার পূর্বেই পৌরসভাসহ উপজেলার প্রত্যেকটি মণ্ডপের প্রতিমা সনাতন ধর্মের অনুসারীরা তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিসর্জন দিয়েছেন। এরপর দেবীকে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর একের পর এক বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে নদী ও পুকুরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও জনসমাগম এড়িয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়।

এদিন বিকালে বিয়ানীবাজার পৌরসভার কালা চান্দ মিলন মন্দিরে প্রতিমা বিসর্জনের পূর্বে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার মেয়র মো. আব্দুস শুকুর, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জামাল হোসেন, পৌর আও্যামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবাদ আহমদসহ আরও অনেকে।

শঙ্খ আর উলুধ্বনি, খোল-করতাল-ঢাকঢোলের সনাতনী বাজনার সঙ্গে দেবী-বন্দনার গানের মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রায় অংশ নেন ভক্তরা। বিধি-নিষেধের কারণে শোভাযাত্রায় ভক্তদের সংখ্যা ছিলো অন্য বছরের তুলনায় কম।

কালাচান্দ মিলন মন্দির ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। বিসর্জনের জন্য একটি ট্রাক কিংবা ভ্যানে একসঙ্গে অনেক মানুষ গেলেও এবার প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ১০ জনের বেশি মানুষ দেখা যায়নি। প্রতিমা ঘাটগুলোতে নেয়ার পর ভক্তরা শেষবারের মতো ধূপধুনো নিয়ে আরতি করেন। শেষে পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে দেবীকে পানিতে বিসর্জন দেয়া হয়।

চণ্ডীপাঠ, বোধন এবং দেবীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু হয় দুর্গাপূজা। করোনা মহামারির কারণে সংক্রমণ এড়াতে এ বছর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করা হয়। উৎসব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে সাত্ত্বিক পূজায় সীমাবদ্ধ রাখতে হবে বিধায় এবারের দুর্গোৎসবকে শুধু ‘দুর্গাপূজা’ হিসেবে অভিহিত করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। করোনার কারণে এবার হয়নি বিসর্জনের শোভাযাত্রা। হয়নি সিঁদুর খেলা।

পূজা উপলক্ষে এবার বেশকিছু বিধিনিষেধও জারি করা হয়। মণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি সীমিত করা ও সন্ধ্যায় আরতির পরই বন্ধ করে দেয়া হয় পূজামণ্ডপ। ছিল না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধুনুচি নাচের প্রতিযোগিতা। জনসমাগমের কারণে স্বাস্থ্যবিধি যাতে ভঙ্গ না হয় সেদিকে খেয়াল রেখেই প্রসাদ বিতরণ ও বিজয়া দশমীর শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়। পূজার সময় বেশিরভাগ ভক্ত এবার অঞ্জলি নিয়েছেন ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে।

এবারের বিয়ানীবাজারে প্রতিমা বিসর্জনের সময় শোভাযাত্রা বর্জন, বিসর্জনকালে শিশু-মহিলা ও বয়স্ক ব্যক্তিদের সাথে না রাখা, প্রতিমা বহনকালে রাস্তায় মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম না বাজানোর কারণে অনেকটা সাদামাটাভাবে বিসর্জন দেয়া হয় দুর্গতিনাশিনী দেবী দূর্গাকে। সরকারি বিধিনিষেধ মেনে সন্ধ্যার আগেই শেষ হয় প্রতিমা বিসর্জন।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-