বিয়ানীবাজারে ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া পানির দরে বিক্রি হচ্ছে। এলাকা ভেদে ৬০ হাজার থেকে লাখ টাকার ওপরে কেনা গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১০০ টাকায়। ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। পানির দামের চেয়েও কম দামে বিক্রি হচ্ছে ছাগলের চামড়া। ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকায়। এই পরিস্থিতিতে চামড়া ব্যবসার সাথে জড়িতরা বলছেন, এভাবে চললে ধ্বংস হয়ে যাবে এ খাত।

এ বছর সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৮ থেকে ৩২ টাকা নির্ধারণ করেছে। সারা দেশে প্রতি বর্গফুট খাসির কাঁচা চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা। প্রবাসী অধ্যুষিত বিয়ানীবাজার উপজেলায় ১৫ হাজারেরও পশু কোরবানি হয়েছে সকালে। দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন মৌসুমি বিক্রেতারা। গরুর চামড়া একেবারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। আর খাসি বা বকরির চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনাগ্রহ রয়েছে।

৬০ হাজার থেকে লাখ টাকার ওপরে কেনা গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১০০ টাকায়। ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। পানির দামের চেয়েও কম দামে বিক্রি হচ্ছে ছাগলের চামড়া। ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকায়। সরকার যে দর নির্ধারণ করে দিয়েছে, সে দরে চামড়া বিক্রি হতে দেখা যায়নি।

খুচরো পর্যায়ের চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা বেশি দাম দিয়ে প্রতি পিস চামড়া সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু পাইকারি ব্যবসায়ীরা, যারা ট্যানারিতে নিয়ে চামড়া বিক্রি করেন, তারা নানা কারণ দেখিয়ে দাম বেশি দিতে নারাজ। এতে তাদের ক্ষতি হচ্ছে।

ইসলাম উদ্দিন ও আব্দুস সাত্তার নামের এক চামড়া মৌসুমি বিক্রেতা বলেন, কোরবানির পশু মালিকদের কাছ থেকে বড় সাইজের গরুর চামড়া ৮০ টাকা আর ছোট সাইজের গরুর চামড়া ৫০ টাকা দরে ক্রয় করেছি। এখন পাইকারি ব্যবসায়ীরা এখন আমাদের কাছ থেকে গরুর আকারভেদে ৩০-৪০ টাকা দরে কিনতে চাইছে। তারা বলেন, গত বছরও চামড়া ব্যবসায় আমরা কয়েক হাজার টাকা লস খেয়েছি। এবার লস খেলে উপায় নাই। চামড়ার দাম একেবারেই নাই এখন, গরীবের যেন মরার পথ!

যারা সিলেটে খুচরো পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক চামড়া কিনে ঢাকার বিভিন্ন ট্যানারিতে বিক্রি করেন সেই চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্যানারি মালিকরা তাদের টাকা আটকে রেখেছেন। আগের টাকা পাওনা থাকায় তারা নতুন করে চামড়া কেনায় বিনিয়োগ করতে পারছেন না। মূলত পুরনো পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার আশাতেই এখন কম দামে চামড়া কিনে ট্যানারিগুলোতে সরবরাহ করছেন তারা। তাদের মতে, চামড়া নিয়ে চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং বিদেশে রফতানির দিকে সরকারকে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

চামড়ার দাম না পেয়ে ক্ষুদ্ধ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিয়ানীবাজারের মাদ্রাসা-এতিমখানা