বিয়ানীবাজারে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা না মানার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি না গিয়ে স্কুলে ডেকে এনে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করছেন তারা। আর সেইসব শিক্ষা উপকরণ পেতে স্কুলের সব শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক একসঙ্গে আসায় জনসমাগমে পরিণত হয়েছে স্কুলের শ্রেণীকক্ষ। এতে করে বর্তমান করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমন দুর্যোগপূর্ণ  সময়ে যেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে সেখানে বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের দেবারাই সরকারি বিদ্যালয়ে স্থানীয় একটি মহল কোমলমতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ডেকে এনে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা জামায়াত নেতা এডভোকেট আজিম উদ্দিন, তিলপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন ও স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এনাম উদ্দিন। এমনকি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, তিলপাড়ার ইউনিয়নের ওই এলাকার আছিরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, আছিরগঞ্জ সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা, দেবারাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খয়রুন্নেসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকেও সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা গেছে। শিক্ষা উপকরণ পেতে স্কুলের সব শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক একসঙ্গে আসায় জনসমাগমে পরিণত হয়েছে স্কুলের শ্রেণীকক্ষ। শিক্ষার্থীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে এবং মাস্কবিহীন অবস্থায় বিদ্যালয়ে এসেছে। ফলে ব্যাপকভাবে করোনা সংক্রামণের আশঙ্কা করছেন সচেতনমহল।

স্কুলের সহকারী শিক্ষক ওমর ফুরকানী বলেন, অনুষ্ঠানের বিষয়ে আমরা তেমন একটা জানতাম না। ম্যানেজিং কমিটি ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আমাদের সেই অনুষ্ঠানে আমাদেরকে অনুরোধ করে নিয়ে গেছেন। যাওয়ার পর সেখানে শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখে দ্রুত অনুষ্ঠান শেষ করার তাগাদা দেই। একই কথা বলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনা বেগম। তিনি বলেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকার লোকজন শিক্ষা অফিস থেকে অনুমতি নিয়েছেন অনুষ্ঠানের জন্য। আমরা শিক্ষকরা এ বিষয়ে কিছুই আগে থেকে জানতাম না। দাওয়াত পেয়ে অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখি হলরুম ভর্তি শিক্ষার্থী। তখন আমি সবাইকে দ্রুত প্রগ্রাম শেষ করার অনুরোধ জানাই।

এ ব্যাপারে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা টিটু কুমার দে’র মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্থানীয় এলাকার কিছু অসহায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করার বিষয়ে স্কুলের শিক্ষকরা আমাদেরকে অবগত করেছেন। তবে হলভর্তি শিক্ষার্থী কিংবা জনসমাগম করে অনুষ্ঠান আয়োজনের কোন অনুমতি আমরা দেইনি। এ বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি। প্রয়োজনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হবে।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে বিয়ানীবাজার ফায়ার সার্ভিসের মহড়া