সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সকল প্রস্তুতি শেষ। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুর্গতিনাশিনী দশভুজা দেবীর বোধন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু। এবার সারাদেশে বিয়ানীবাজারের ৩৫টিরও বেশি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দুর্গাপূজা।

এদিকে শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিয়ানীবাজারের সনাতনধর্মীয়রা। এখানকার মন্ডপে-মন্ডপে আলোকসজ্জা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মহালয়া, বোধন ও সন্ধিপূজা-এই তিন পর্ব মিলে হয় দুর্গোৎসব। তবে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার শারদীয় ‘দুর্গোৎসব’কে ‘দুর্গাপূজা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। অর্থাৎ এবার কোনো উৎসব হবে না, শুধু পূজা হবে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়া অনুষ্ঠিত হয়। পুরাণ মতে, এদিন দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। মহালয়ার ছয় দিন পর পূজা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এবার তা অনুষ্ঠিত হয়নি। আশ্বিন মাস মল (মলিন) মাস হওয়ায় এবার দুর্গাপূজা শুরু হলো প্রায় এক মাস পর ২১ অক্টোবর থেকে।

পঞ্জিকা মতে, ২০২০ সালে মা দুর্গার আগমন হচ্ছে দোলায়। দোলায় চড়ে বাপের বাড়ির উদ্দেশে স্বামীর ঘর থেকে রওনা দেবেন তিনি। ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, দোলায় আগমন এর অর্থ মড়ক। ফলে পূজার বা তার পরবর্তী সময়েও মহামারির পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মায়ের গমন এবার গজে। অর্থাৎ হাতিতে চড়ে মা বাপের ঘর ছেড়ে পাড়ি দেবেন স্বর্গে। গজে চড়ে গমনের ফল শুভ হয়। তবে এই বছরের পূজা অন্যান্য বছরের মতো নয়। করোনা আতঙ্কের আবহেই এবার দেবীপক্ষের সূচনা হয়। আর মহামারির দুর্যোগ মাথায় নিয়েই এবার হচ্ছে মাতৃবন্দনা।

করোনার কারণে এবার পূজার অনুষ্ঠানমালা শুধু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মন্দির বা মণ্ডপ প্রাঙ্গণে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপে যাওয়ার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গাইডলাইন অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। মণ্ডপ ও ভক্ত পুজারিদের নিরাপত্তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-