বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪। ১০ মার্চ ২০১৭।

সিলেট-বিয়ানীবাজার মহাসড়কের বিয়ানবাজার উপজেলার আলীনগরের টিকরপাড়া এলাকার কাপাপুর নামক স্থানে ট্রাক চাপায় অটোরিক্সার তিন যাত্রি ঘটনাস্থলে এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে একজন মারা গেছেন। অাজ শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত অটোরিক্সার অপর দুই যাত্রিকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর পরই ট্রাক ফেলে চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা ধাওয়া করে গোলাপগঞ্জ উপজেলার রানাপিং বাজার এলাকায় তাকে আটক করেন। এ ঘটনায় বিব্ধুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করলে সিলেট-বিয়ানীবাজার-জকিগঞ্জ মহাসড়কে যান জট দেখা দেয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ও চারখাই ফাড়ির পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা চেষ্টা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী জুনেদ আহমদ বলেন, সিলেট থেকে আসার পথে আমাদের গাড়ি থেকে অল্প দুরত্বে থাকা অটোরিক্সাকে (সিলেট থ ১১-৪৭৭২) বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুত গতির একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্টো ট ১৪-৩৭৪৯) চাপা দিলে মুহূর্তে অটোরিক্সা দুমড়ে মুচড়ে যায়। আমরা গাড়ি থেকে নেমে আহতদের টেনে বের করার চেষ্টা করি। এর মধ্যে তিনজন সাথে সাথে মারা যান। আহত অপর তিনজনকে অন্য অটোরিক্সায় তুলে হাসপাতালে প্রেরণ করি। তাদের অবস্থায় খুবই গুরুতর।

হাসপাতালে নেয়ার পথে কানাইঘাট উপজেলার সরদারমাটি এলাকার ফয়েজ আহমদের পুত্র দুলাল আহমদ (২৬) মারা যান। এছাড়া ঘটনাস্থলে জকিগঞ্জ উপজেলার গঙ্গারজল এলাকার ওয়ারিছ আলীর পুত্র আব্দুল আহাদ (৩২), কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি এলাকার নুর উদ্দিনের পুত্র শিব্বির আহমদ, বিয়ানীবাজার উপজেলার কাকুরা গ্রামের গোলজার আহমদ (২৮) মারা যান। গুরুতর আহত অটোরিক্সা চালক দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই ইউনিয়নের পশ্চিমবাগ এলাকার ওয়াহিদ আলীর পুত্র আবুল হোসেন ও জকিগঞ্জ উপজেলার গঙ্গার জল এলাকার হোসেন আহমদকে (২৬) সিলেটর ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার অবস্থাও আশংকাজনক।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর পরই চালক পালিয়ে যায়। নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী শেষে মরদেহ ময়না তদন্তের সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হবে। সড়কের যানজট স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।