আহমেদ ফয়সাল। ১০ মার্চ ২০১৭।

অর্ধশত শিশু শ্রমিকদের পাঠদান দিচ্ছে বিয়ানীবাজারের চার তরুণ। প্রতি শুক্রবার ‘ছুটির দিনের স্কুল’ নাম দিয়ে পৌরশহরের খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রমিক শিশুদের পাঠদান দিচ্ছেন তারা। নানা বয়সি শিশুদের শিক্ষাদান করে আত্মতৃপ্তি পাচ্ছেন এসব তরুণরা।

শিক্ষাই হোক শ্রমিক শিশুর মূল হাতিয়ার- এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রায়হান আলম সাজু স্থানীয় ১২জন তরুণ নিয়ে গঠন করেন ‘সামু এডুকেশন ট্রাস্ট’। গত আট বছরে তাদের ছুটির দিনের স্কুল থেকে ২৫জন শিশুকে পাঠদান দিয়ে বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি করে আসছেন। এসব শিশুর লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ বহন করছে তরুণদের এ ট্রাস্ট।

ট্রাস্টের চেয়ারম্যান রায়হান আলম সাজু বলেন, শ্রমিক শিশুদের পাঠদান দেয়ার পাশাপাশি এ পর্যন্ত আমরা ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনগ্রসর পরিবারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রত্যেক বছর শিক্ষা উপকরণ, স্কুল ড্রেস, স্কুল বেগ দিয়ে আসছি। আমাদের আয়ের একটি অংশ এ ট্রাস্টে ব্যয় করি। বাইরের কারো সাহায্য আমরা এ পর্যন্ত নেইনি। ভবিষ্যতেও একই রকম চিন্তা ও চেতনা নিয়ে এগোতে চাই। ছুটির দিনের স্কুলে সাজুর সাথে তানভীর, কামরুজ্জামান, আল আমীন ও সীমা আক্তার শ্রমিক শিশুদের পাঠদান দিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, লেখা পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে তারা যুক্ত রয়েছে।

ছুটির দিনের স্কুল’র শিক্ষক তানভীর আহমদ বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের স্নাতক সম্মানের (১ম বর্ষ) শিক্ষার্থী। শিশুদের শিক্ষাদানের বিষয়টি নিয়ে খুব আবেগি তানভীর। তিনি বলেন, তারা চাইলে পুরো এক সপ্তাহ তাদের পড়াতে পারি। কিন্তু বিভিন্ন কাজে সারাদিন ব্যস্ত থাকায় সপ্তাহে মাত্র একদিন তাদের পাই। শিক্ষক সীমা বলেন, এসব শিশুদের শিখার এতো আগ্রহ কেউ না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবে না। তাদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার সুযোগ পাওয়ায় সত্যি খুব ভাল লাগছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুম মিয়া বলেন, ছুটির দিনের স্কুল- এ আমার যাওয়া হয়েছে। সত্যি খুব ভাল একটা উদ্যোগ। এ স্কুলের প্রায় ২৫জন শিক্ষার্থী আমাদের বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি হয়েছে। তিনি বলেন, সাম এডুকেশন ট্রাস্টের দায়িত্ব¡শীলদের সাথে আমার আলাপ হয়েছে। তারা চাইলে প্রত্যেক সপ্তাহে একজন করে শিক্ষকের ব্যবস্থা আমরা করে দিতে পারি।