বিয়ানীবাজার উপজেলায় চাহিদা অনুযায়ী বই এখনও পৌছানি। করোনা পরস্থিতির কারনে এবছর বই উৎসব না হলে ১ জানুয়ারি বই বিতরণ শুরু করবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। উপজেলা প্রাথমিক সবইয়ের চাহিদা রয়েছে ১ লক্ষ ৭০ হাজার। তবে রবিবার পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসে বই পৌছছে লক্ষ ৭৫০ টি। মাধ্যমিক শিক।সা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিম্ন মাধ্যমিকের চাহিদার ৩৪ ভাগ, মাধ্যমিকে ৬৯ ভাগ বই পাওয়া গেছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানায়, ২০২১ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রায় ৩৬ কোটি বই ছাপানো হবে। তার মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রায় ১০ কোটি ৫৪ লাখ বই ছাপানো হবে। মাধ্যমিকের বই রয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ৪১ লাখ। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলে ২০২১ শিক্ষাবর্ষে বিনামূল্যের বই ছাপানোর জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।

জানা গেছে, সারাদেশে এ পর্যন্ত ৩৪টি জেলার ১৬২টি উপজেলায় দেড় কোটির বেশি প্রাথমিকের পাঠ্যবই পৌঁছে গেছে। আরও প্রায় দুই কোটি বইয়ের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে, তা দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌঁছে যাবে। এর সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলায় প্রাক-প্রাথমিকের প্রায় এক কোটি বই পাঠানো হয়েছে।

বিদ্যালয়ে নতুন বছরে নতুন বই পাওয়া নিয়ে এক ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে। করোনার কারণে টেন্ডার ডাকতে দেরি হওয়া ও কাগজ না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বই সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। যদিও ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড’ এনসিটিবি বলছে সময়মত বই পৌঁছে যাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

এক দশক ধরে নতুন বছরের প্রথম দিনে নতুন বইয়ের উৎসব করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।তবে করোনার কারণে আট মাস ধরে স্কুলগুলো বন্ধ এবং বই ছাপানোয় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় এবার নতুন বইয়ের উৎসব করা সম্ভব হচ্ছে না। কথাটি অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, কোন সমাবেশ করে নয়। নতুন বছরে নতুন বইগুলো সকল শিক্ষার্থী কিভাবে পাবেন সে ধরণের নির্দেশনা স্কুলগুলোতে আমরা দিয়ে দিবো। এ বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় সাড়ে ৩৪ কোটি বই ছাপানো হচ্ছে। দরপত্রের সময় অনুযায়ী কিছু সংখ্যক বাদে প্রায় সব বই ডিসেম্বরের মধ্যে উপজেলায় পাঠানোর কথা। সেখান থেকে যাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে।

মহামারীর কারণে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ভিন্ন পন্থায় শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই তুলে দিতে চায় সরকার। যদিও যথাসময়ে নতুন বই পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা নতুন বই পেতাম এবার করোনার কারণে পাচ্ছি না এসব নিয়ে চিন্তায় আছি।

অভিভাবকরা বলেন, আমাদের বাচ্চারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে আছে। নতুন বই পাবে কি না, বা কখন পাবে। করোনার কারণে অনেক চিন্তায় আছি এছাড়া সামনের বছরে কি হবে তা এখনো বুঝতে পারছি না।

আগের বছরগুলোতে অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে বই পাঠানো হলেও এবার শেষ ডিসেম্বরেও ছাপার কাজ চলছে। কাগজের অপর্যাপ্ততার পাশাপাশি দামবৃদ্ধিসহ নানামুখী সংকটে এমন সমস্যা হয়েছে বলে জানান প্রেস মালিকরা।

প্রেস মালিকরা বলেন, আমরা অবশ্যই ক্ষতির সম্মুখীন হবো যদি এভাবে কাগজের দাম বাড়তে থাকে। তাও চেষ্টা করছি কিভাবে কাজগুলো শেষ করা যায়। আমরা ডিসেম্বর কাজ শেষ করতে পারবো যদি ঠিক মতো কাগজ পাই।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান নারাণ চদ্র স সাহা বলেন, প্রাইমারির ৭০% বই চলে গেছে উপজেলাতে এবং মাধ্যমিকের ৫০% এর ওপরে চলে গেছে উপজেলাগুলোতে। আমরা এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সঠিক সময়ে বই দেয়ার জন্য।

এমন অবস্থাতেও আশাবাদী জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। শিক্ষার্থীদের হাতে ঠিক সময়েই বই পৌঁছানোর আশ্বাস দিলেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজার চাহিদা অর্ধেক বই এখনও আসেনি