বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪। ০৪ মার্চ ২০১৭।

বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী গজুকাটা গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল ১১টার দিকে দুই পক্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই ঘন্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় কমপক্ষে ৩৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বেসরকারি হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল উপস্থিত হয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের থাকলেও ফের সংঘর্ষেও আশংকা করছেন এলাকাবাসী। শনিবার বিকাল সোয়া ৪টায় পর্যন্ত থানায় কোন পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নুল হোসেন বলেন, তিনদিন পূর্বে গজুকাটা গ্রামের হাজী আকদ্দছ আলীর বাড়ির সুপারী চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে সাবেক মেম্বার আলতাফ আলী গোত্রের রুবেল আহমদ (১৯)। রুবলেকে অন্যায়ভাবে মারধরের প্রতিবাদ করেন আফতাব আলী। এ নিয়ে হাজী আকদ্দছ আলীর গোত্রের লোকজন শনিবার সকালে বৈঠকে বসেন। এ বৈঠক থেকে ৬/৭ একটি দল আফতাব আলীর কাছে ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ত হওয়ার কারণ জানতে চান। এনিয়ে আফতাব আলীর বাড়িতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষই দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গ্রামের মূল সড়কের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।  প্রায় ঘন্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সাধারণ মানুষের চিকিৎকারে আশাপাশের বিভিন্ন গ্রামের  লোকজন ছুটে দিকে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা বেলা ১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সংঘর্ষের গুরুতর আহত জামিল আহমদ (২৫) ও দেলোয়ার হোসেন (২৩) কে আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে বদরুল ইসলাম (৩৮), মজনু মিয়া (৫০), ছব উদ্দিন (২৪), আব্দুল করিম (৪৫) জামাল হোসেন (২৫) আব্দুর রহিম (৩৪) আবুল কালাম (৪২), কামাল হোসেন (৩৬), ময়নুল ইসলাম (৩৫), মোঃ রায়হান (২৬), তানভীর আহমদ (১৬), হোসাইন (১৮), নাহিদ (১৬), মনজুর ইসলাম (২৬), জুবের (২৬), ডলি বেগম (৪৫), রোমান আহম্মদ (১০), রুসনা বেগম (৩৫), পারভীন (৩০), জামান উদ্দিন (৪৬), মেনু মিয়া (৪০),  হেনা বেগম (২৭), দেলোয়ার (২২), জামিল (২৫), ইয়হিয়া (২৫), জুবের আহমদ (২২), আশরাফুল আলম (১৯), সুলেমান হোসেন (৫০), ছয়রুন নেছা (৮০), সুফিয়ান আহম্মদ (৪০), হোসেন আহম্মদ (৩০),  নাসরিন (৩০),  আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, খবর পেয়ে আমি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এখন পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত আছে। থানায় কোন পক্ষই এ পর্যন্ত কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।