বিয়ানীবাজার উপজেলার কালাউরা গ্রামের ইউপি সদস্য মুমিনুল ইসলাম রুমনের বাড়িতে থেকে এক গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গৃহকর্মী হত্যার অভিযোগে পুলিশ ইউপি সদস্য রুমনকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মহিলার লাশ উদ্ধার করে আজ শনিবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানি হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।

গৃহকর্মী রেশম বেগম (৪৫) হত্যার অভিযোগে তার চাচা আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে দুইজনকে আসামী করে শনিবার বিয়ানীবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা (০৬/২৪-০৬-১৭) দায়ের করেন। এ মামলায় লাউতা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মুমিনুল ইসলাম রুমন ও তার স্ত্রী ফারহানা বেগমকে আসামী করা হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের দিঘলভাগ এলাকার মৃত মন্তাজ আলীর কন্যা রেশম বেগম চার মাস পূর্বে ইউপি সদস্য মুমিনুল ইসলাম রুমনের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজে যোগ দেন। শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হলে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে নিহত গৃহকর্মী স্বজনরা সন্ধ্যার দিকে থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ রাত ৮াটর টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ জব্দ করে। এসময় গৃহকর্তা ইউপি সদস্য রুমনকে পুলিশের অনুমতি ছাড়া বাড়ির বাইরে না বের হতে নিদের্শ দেয়া হয়। পরে সহকারি পুলিশ (জকিগঞ্জ সার্কেল) মস্তাক সরকার ঘটনাস্থলে আসার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে মহিলার লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়। গতকাল শনিবার সকালে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজের মর্গে লাশের ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

সুরতহাল সম্পন্ন করা পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, লাশের ডান হাতের বাহুর পেছন দিকে একটি আঘাতে পচন ধরেছে। শরিরে একাধিক স্থানে রয়েছে আঘাতে চিহ্ন। অন্য হাতের আঙ্গুলের কাটা অংশে সেলাই করা রয়েছে।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, লাশ দেখে মনে হয়েছে নির্যাতনে মহিলার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা ইউপি সদস্য রুমনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছি। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুমন হত্যার দায় স্বীকার করেননি। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে রেশম পড়ে গিয়ে আহত হয়, তাকে চিকিৎসা দেয়াও হয়। কিন্তু শুক্রবার দুপুরের দিকে সে মারা যায়।