বিয়ানীবাজার কভিড-১৮ মহামারির শুরু ৫৭ দিনে সন্দেহভাজন রোগীদের যতগুলো নমুনা নেয়া হয়েছে তার চেয়ে বেশি নমুনা নেয়া হয়েছে জুন মাসের প্রথম দশদিনে। নমুনা সংগ্রহের ধীরগতি কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছে দায়িত্বশীলদের একাগ্রতা ও উপজেলাবাসীর সচেতনতার কারণে। তবে মহামারির সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে পুরো উপজেলার সিংহভাগ মানুষ এখনো অসচেতন ও অসর্তক রয়েছেন। যার কারণে বাড়ছে করোনার পজেটিভ রোগীর সংখ্যা।

বিয়ানীবাজারে ৪ এপ্রিল করোনা সন্দেহভাজন মুড়িয়া ইউনিয়নের ছোটদেশ এলাকার যুবক প্রথম নমুনা দেন। করোনা উপসর্গ থাকা এ যুবকই প্রথম নমুনা দেয়া ব্যক্তি। এরপর ৩১ মে পর্যন্ত দীর্ঘ ৫৭ দিনে ২১৯জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে ১জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বশীলরা নমুনা সংগ্রহ করেন ২৬২ জনের। গড়ে প্রতিদিন ২৬জনের নমুনা নিয়েছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আবু ইসহাক আজাদের মেডিকেল টিম। এই সময়ে করোনা পজেটিভ হয়েছেন ১৪ জন। যা উপজেলায় মোট আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি। অথচ পাঁচ জনের একই মেডিকেল টিম গত ৫৭ দিনে প্রতিদিন ৩জনের বেশি সন্দেহভাজন করোনা রোগীর নমুনা নিয়ে ছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ১জুন নমুনা নেয়া হয়েছে ১৯ জনের। এরপর ৪৭, ২৩, ১৮, ৬২, ১৩, ২৪, ২৮ ও ১০ জুন নেয়া হয়েছে ২৮ জনের। সচেতন উপজেলাবাসীর সহযোগিতা পেলে নমুনা সংগ্রহের এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান দায়িত্বশীলরা। এই দশদিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নমুনা ৬২ জনের নেয়া হয় ৭জুন। এছাড়া সবচেয়ে বেশি করোনা ৫জন পজেটিভ হয়েছেন ৩জুন।

জুন মাসে সংক্রমন বেশি হওয়ার কারণে নমুনা বেশি সংগ্রহ হয়েছে জানিয়ে উপজেলার আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আবু ইসহাক আজাদ বলেন, উপজেলার এখনো বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ করোনাভাইরাসের সংক্রমন নিয়ে অসচেতন রয়েছেন। আমাদের প্রচারণা, নজরধারি অব্যাহত থাকলেও সাধারণ মানুষকে সচেতন করা কিংবা রোগ সম্পর্কে সর্তক করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে এরপরও দিন যত গড়াচ্ছে আমাদের কাজ সহজ হচ্ছে এবং আমরা বেশি করে নমুনা নিতে পারছি। তিনি বলেন, বেশি নমুনা সংগ্রহ করার পেছনে সচেতনতা থেকে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের কারণে হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তি সংস্পর্শে আসাদের নমুনা নেয়া হচ্ছে। এরবাইরে উপসর্গ দেখা দিয়েছে কিংবা কমিউনিটির ট্রান্সমিশনের থাকতে পারেন এমন সন্দেহভাজন রোগী সংখ্যা খুব কম।

‘এবি টিভি’র সর্বশেষ প্রতিবেদন-