বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই বাজারে প্রকৃত ডাক্তারদের মতো চেম্বার খুলে দিব্বি চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন এক ভূয়া ডাক্তার। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞা সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে চিকিৎসা দেয়ার অভিযোগে কয়েকজন ডাক্তার গত মঙ্গলবার বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য ও পরিবার কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেবা মেডিকেল সেন্টারের মালিক ও ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। তাদের পৃষ্ঠপোশকতায় ভূয়া ডাক্তার শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ সেজে দীর্ঘদিন থেকে প্রতারণা করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডাক্তার জুনায়েদ আজম চৌধুরী নামের ওই ভূয়া ডাক্তার শিশু চিকিৎসক হিসাবে সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে চেম্বার খুলে চিকিৎসা দিচ্ছেন। এতে ওই এলাকার শিশুরা দীর্ঘ মেয়াদী বিভিন্ন জটিল রোগে ভোগার আশংকা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ চিকিৎসক সনদ বিএমডিসি কনো সন;দ ও রেজিনং না থাকলেও সে দীর্ঘদিন থেকে সাধারণ মানুষের সাথে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসাবে প্রতারণা করছে। এর আগে বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও দায়িত্বকালীন সময়ে ডাক্তার ফয়েজ আহমদ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিল। সম্প্রতি পুনরায় চারখাইয়ে চেম্বার খুললে স্থানীয় প্রতিক্রিয়া দেখান। এতে তার সাথে কয়েকজন ভোক্তভোগির বাগবিতন্ডা ঘটে। লিখিত অভিযোগ করেন ডা. আব্দুর রহমান, ডা. জোবায়ের আহমদ, ডা, আবু কামরান বাহুল ও ডা. আরিফ হাসান।

স্থানীয়রা জানান, চারখাইয়ের সেবা মেডিকেল সেন্টার এবং এ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজানের সাথে যোগসাজস করে দীর্ঘদিন থেকে ভূয়া ডাক্তার জুনায়েদ আজম চৌধুরী শিশুদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। মুলত চারখাই সেবা মেডিকেল সেন্টারের মালিক রেজওয়ান আহমদ ও ম্যানেজার আবু তাহির এ ভূয়া ডাক্তারের পৃষ্টপোশক। তাকে দিয়ে তারা ব্যবসায়ীক ফায়দা হাসিল করেছেন।

ডাক্তার জুনায়েদ আজম চৌধুরীর সাইন বোর্ডে থাকা মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সেবা মেডিকেলের ম্যানেজার কলটি রিসিভ করেন। তিনি জানান, ডাক্তার জুনায়েদকে তিন চারদিন পূর্বে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এখন এ চেম্বারে কোন ডাক্তার বসেন না। তার নাম জিজ্ঞেস করলে ম্যানেজার নাম না বলে সেবা মেডিকেলের মালিক রেজওয়ান আহমদের সাথে কথা বলতে বলেন। নাম বলতে আপত্তি কেন জানতে চাইলে তিনি সংযোগ কেটে দেন। তবে স্থানীয়রা ম্যানেজার নাম আবু তাহির বলে জানিয়েছেন।

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য  কর্মকর্তা (টিএইচও) ডাক্তার মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরী বলেন, সে ভূয়া ডাক্তার। আমি তার সাথে কথা বলে তাকে চিকিৎসা প্রদান থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করেছি। তারপরও সে চিকিৎসা দেয়া শুরু করলেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, এরকম ভূয়া ডাক্তারকে যারা পৃষ্ঠপোশকতা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।