ফসলের মাঠজুড়ে বাতাসে দুলছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন আমন ধান। এবার আমনের বাম্পার ফলনের সুবাস পাচ্ছেন কৃষকরা। বিয়ানীবাজার উপজেলার কৃষক পরিবারগুলো ভাসছে এখন ধানের মৌ মৌ গন্ধে। মাঠে মাঠে আনন্দে ধান কাটছেন চাষিরা। আমনের বাম্পার ফলন আর নবান্নের আনন্দে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ-ঘাট ভরে উঠেছে সোনালি ফসলে।

বিয়ানীবাজারের হাওড় ও ফসলি মাঠজুড়ে পাকা ধানের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। কৃষাণ-কৃষাণীর মনে বইছে আনন্দের বন্যা। উপজেলাজুড়ে আমন ধানের বাম্পার ফলনে আবারও বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছেন কৃষক-কৃষাণীরা। দিগন্তজোড়া সোনালি ফসলের মনোরম দৃশ্য এখন গোটা উপজেলাজুড়ে। শুরু হয়েছে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। ফসল কাটার মহোৎসবে ব্যস্ততম সময় কাটাচ্ছেন এখানকার কৃষকরা। শীতের সকাল থেকে পড়ন্ত বেলা পর্যন্ত মাঠে মাঠে ফসল কর্তনের চিরাচারিত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে গ্রামজুড়ে।

উপজেলার বিভিন্ন এয়ালাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, একদিকে কৃষকরা ধান কেটে বাড়ির আঙিনায় জড়ো করছেন, অপরদিকে মেশিন দিয়ে একই সঙ্গে মাড়াইয়ের কাজ সম্পন্ন করে নেওয়া হচ্ছে। মাড়াই শেষে বাতাসে ধান উড়িয়ে বাকি কাজটুকু সম্পন্ন করে গোলায় তোলার কাজে এখন কৃষাণীরা ব্যস্ত থাকবেন। চলবে উপজেলার গ্রামে গ্রামে মাঠের পর মাঠ সোনালি ফসল ঘরে তোলার মহোৎসব। বাতাসে ছড়ানো আমনের মৌ মৌ গন্ধ আর কৃষক-কৃষাণীদের ফসল ঘরে তোলার কর্মব্যস্ততা এখানে এক অন্যরকম আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, পৌরসভাসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে এ বছর আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ২’শ ৫৫ হেক্টর জমি। এর মধ্যে আমন রোপণের সময় তিন দফা বন্যার মুখে পড়েন কৃষকরা। বার বার পানিতে তলিয়ে যায় বীজতলা। পরে পানি নামলে চারা উৎপাদন করেন কৃষকরা। রোপণকৃত চারার মধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল ও স্থানীয় জাতের ধান। উচ্চ ফলনশীলের মধ্যে রয়েছে ৯’শ ৫০ হেক্টর জমিতে বিআর ১০, ১৫’শ ৫০ হেক্টর জমিতে বিআর ১১, ৯’শ ৫০ হেক্টর জমিতে বিআর ২২, ৫’শ ২০ হেক্টর জমিতে বিআর ২৩, ৩’শ ৫০ হেক্টর জমিতে বিআর ৩২, ৪’শ হেক্টর জমিতে ব্রি ধান ৩৪, ৮’শ ১০ হেক্টর জমিতে ব্রি ধান ৪৯, ৮’শ ৪০ হেক্টর জমিতে ব্রি ধান ৫১, ৭’শ ৭০ হেক্টর জমিতে ব্রি ধান ৫২, ৫০ হেক্টর জমিতে ব্রি ধান ৬২, ৭৫ হেক্টর জমিতে বীনা , ১০ হেক্টর জমিতে বীনা ধান ১১ ও ১৭। অন্যদিকে, শানীয় জাতের মধ্যে ২’শ ৪০ হেক্টর জমিতে বালাম, ১’শ ৩০ হেক্টর জমিতে বিরইন, ৪’শ ৭০ হেক্টর জমিতে জড়িয়াশাইল, ২’শ ৬০ হেক্টর জমিতে লতিশাইল, ৩’শ ২০ হেক্টর জমিতে ময়নাশাইল, ১’শ ১০ হেক্টর জমিতে চিনিগুড়া, ২’শ ৫০ হেক্টর জমিতে নাইজারশাইল, ২’শ ১০ হেক্টর জমিতে আখনীশাইল ধান।

এদিকে, অন্য বছর ইঁদুর আর পোকা-মাকড়ের আক্রমণ ও রোগবালাই ব্যাপকহারে দেখা দিলেও এবছর এগুলোর উপদ্রব ছিল কম। নালবহর গ্রামের গ্রামের কৃষক নুর উদ্দিন বলেন, বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে আমন চাষাবাদ নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। যে প্রত্যাশায় এতো পরিশ্রম, এবার তা পূর্ণ হয়েছে। আশা রাখি খরচ পুষিয়ে লাভ হবে। নিদনপুর গ্রামের কৃষক কামাল আহমদ বলেন, তিন দফা বন্যার পানিতে বীজতলা তলিয়ে যাওয়ার পরও এবার আমন ধানের ভালো ফলন হয়েছে।

বিয়ানীবাজার উপজলো কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান বলেন, বন্যায় প্রাথমিকভাবে চারা উৎপাদনের সময় কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। নষ্ট হয় বীজতলাও। পরে আর কোনো সমস্যা হয়নি। বৃষ্টি থাকায় ধানের গাছও বড় হয় দ্রুত। এ বছর ভালো ফলন হওয়ায় সাময়িক ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে পারবেন কৃষকরা। তিনি আরও বলেন, এবার আমনের বাম্পার ফলন হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবছর বিয়ানীবাজারে প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন চালের উৎপাদন বেড়েছে। গত বছর এ উপজেলায় আমন চালের উৎপাদন ছিল প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক ট্রন।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারে আমনের বাম্পার ফলন