বিয়ানীবাজারে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতির প্রস্তুতি আইনে পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে। বুুুধবার এসআই সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা দু’টি দায়ের করেন। পরে ধৃত ৩ ডাকাতকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

এ সময় পুলিশ আসামীদের ৭ দিনের রিমাণ্ড আবেদন করলে আদালত তাদের ৫ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওইদিন বিকেলে ডাকাতদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

এদিকে, বুধবার বিকেল থেকে বিয়ানীবাজার থানায় অবস্থান করেন সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম। তিনি রিমান্ডে নেওয়া ডাকাতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অপর সন্দেহভাজন ডাকাতদের গ্রেফতারে থানা পুলিশকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ডাকাত দলের সক্রিয় দুই সদস্য সিলেট শহরে অবস্থান করছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।

পুলিশ সূত্রমতে, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর রাতে সিলেট নগরীতে গ্রেফতার হয় ডাকাত সর্দার শিপন হাজারী। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই জেলাজুড়ে ডাকাতদের তথ্য ও পরিকল্পনা জেনে যায় পুলিশ। এরপর পুরো সিলেটে নজরদারী বৃদ্ধি করে আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী। যার রেশ ধরে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের হাতে গত মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার হয় তিন ডাকাত। বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের কোনাগ্রামের একটি ইটভাটার আশেপাশে তারা একত্র জড়ো হওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে দু’ভাগে ভাগ হয়ে মুড়িয়া ও লাউতা ইউনিয়নের একাধিক স্থানে তাদের অপারেশনের পরিকল্পনা ছিল।

ধৃত ডাকাতদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিয়ানীবাজারের দুবাগ ইউনিয়নের বাঙ্গালহুদা গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে হোসেন আহমদ (৩০) পেশায় সিএনজি অটোরিক্সা চালক। সে স্থানীয় ৭০৭ শাখার একজন সদস্য। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের ছেলে হোসেন দুই সন্তানের জনক। তার মা দুবাগ এলাকায় ভিক্ষা করেন। হোসেন প্রায়ই এলাকা থেকে নিরুদ্দেশ হতো। ৩-৪দিন এমনকি সপ্তাহ পর্যন্ত তার কোন খোঁজ মিলতোনা। ধারণা করা হচ্ছে, সে ডাকাতি করতেই এলাকার বাইরে অবস্থান করতো।

অপর ডাকাত কমলগঞ্জ থানার মৃত মদরিছ আলীর ছেলে মো. ইসলাম (৩৪) এর বিরুদ্ধে ৭টি মামলা চলমান। সে একজন পেশাদার ডাকাত। বড় ডাকাতির ঘটনায় তার ডাক পড়তো। বিয়ানীবাজার পৌরশহরের পশ্চিম নয়াগ্রামের মৃত মালু হোসেনের ছেলে সাইরুল ইসলাম (৩৩)। জাতীয় পরিচয়পত্রে তার এ ঠিকানা থাকলেও মূলত: সে অন্য জেলার বাসিন্দা। নয়াগ্রামে সে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে। মূলতঃ সাইরুল রেকি কাজে পারদর্শী ছিল। এজন্য তার ওপর উপজেলার রাস্তাঘাট চিনিয়ে দেয়াসহ কোন বাড়ির অর্থনৈতিক অবস্থান কেমন, তা ডাকাত সর্দারকে অবগত করত সে।

অপরদিকে, ডাকাত গ্রেফতার ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে গতকাল দুপুরে সিলেট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম।

এ সময় তিনি বলেন, বিয়ানীবাজারে বড় ধরনের ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র এমন সংবাদ পেয়ে আমরা তাদেরকে ধরার জন্যে পরিকল্পনা করি। একই সাথে প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের সর্বশেষ অবস্থান নজরে রেখেছিলাম।

একপর্যায়ে মঙ্গলবার রাত ৮টায় জকিগঞ্জ সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় ও থানা অফিসার ইনচার্জ হিল্লোল রায় এর নেতৃত্বে ডিবি দক্ষিণ পুলিশের সহায়তায় ৩ ডাকাতকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর একটি সিএনজি অটোরিকশা করে আরো কয়েকজন ডাকাত পালিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার বলেন, ধৃত ডাকাতদের কাছ থেকে একটি নাম্বারবিহীন সিএনজি অটোরিক্সা, ৬ চেম্বার বিশিষ্ট একটি বিদেশী রিভলবার, দুইটি ওয়ান শুটারগান, ১৪টি কার্তুজ, গ্রীল কাটার, ৩টি লােহার তৈরী কাঠের বাটযুক্ত দা, একটি শাবল, দুইটি তালা ভাঙ্গার শাবল, একটি স্লাই রেঞ্জ, ১টি প্লাস্টিকের ক্রু ড্রাইভার ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাত ৮টায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পৌরসভার খাসা নয়াবাজার এলাকা থেকে ৩ ডাকাত আটক করা হয়। এরমধ্যে মো. ইসলাম এর বিরুদ্ধে কমলগঞ্জ থানায় একাধিক গ্রেফতারী পরােয়ানা মূলতবীসহ ৭ মামলা ও সাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বর্ণিল আয়োজনে মোল্লাপুর ফ্রেন্ডস্ সোসাইটির ২৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন