দেশীয় ফল লটকন। সিলেট ও আশপাশ এলাকায় বুবি নামেই পরিচিত দেশীয় এ ফলটি। অধিক ফলন ও রাসায়নিকমুক্ত হওয়ায় বিয়ানীবাজার ও আশপাশ এলাকায় এ ফলের চাহিদা প্রচুর। যার কারণে প্রথমবারের মতো অস্থায়ীভাবে বিয়ানীবাজার পৌরশহরে বসেছে বুবি’র হাট। এ ফল বিক্রির সাথে জড়িত রয়েছেন হাজার খানেক মৌসুমী ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী।

সুর্য উঠার আগেই পৌরশহরের উত্তরবাজারে বুবি নিয়ে আসেন পাইকারি বিক্রেতারা। সকাল ১১টার মধ্যে বুবি’র হাটে পাইকারি বেচাকেনা শেষ হয়ে যায়। সময় বাড়ার সাথে সাথে পাইকারি বাজারের এ বুবি ছড়িয়ে পড়ে পৌরশহর ও আশপাশ এলাকায়। খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজি বুবি বিক্রি করেন ১৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায়।

বুবি সাধারণত্ব উচু ও পাহাড়ি এলাকায় চাষাবাদ হয়ে থাকে। টকমিষ্ট এ ফলের প্রথমবারের মতো অস্থায়ী হাট বসেছে পৌরশহরের উত্তরবাজারস্থ সাংস্কৃতিক ক্লাব ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে। সাত সকালে বুবি বিক্রি করতে বিয়ানীবাজার, বড়লেখা, জুড়ি ও কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন পাহাড় ও টিলা থেকে ঝুড়ি ভর্তি বুবি বিয়ানীবাজারে নিয়ে আসেন বিক্রেতারা
বুবি’র পাইকারি এ হাটে এক ঝুড়ি বুবি বিক্রি হয় ৪শত টাকা থেকে ৫শত টাকায়। একেকজন ব্যবসায়ী ৪ থেকে ৬ ঝুড়ি বুবি নিয়ে আসেন। প্রতিদিন গড়ে এক লাখ টাকার বেশি বেচাকেনা হচ্ছে বলে জানান এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে আবহাওয়া প্রতিকুল থাকলে বেচাকেনা অর্ধেকে নেমে আসে। গত দেড় মাস থেকে অস্থায়ী হাটে বুবি বিক্রি করা মৌসুমী ব্যবসায়ীরা স্থায়ী হাটের দাবি জানান।

বড়লেখার উপজেলার গল্লাসাঙ্গন এলাকার বাসিন্দা মঈন উদ্দিন প্রতিদিন ৬ ঝুড়ি বুবি নিয়ে আসেন। তিনি বড়লেখা ও জুড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতাধিক বুবির গাছ ক্রয় করেছেন। মঈন উদ্দিন বলেন, আগে একেকজন একেক জায়গা বসে যার যার মতো করে বিক্রি করতাম। পৌরসভার সংশ্লিষ্টরা সবাইকে এক জায়গায় বসে বিক্রি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এতে আমরা উপকৃত হয়েছি এবং খুচরা বিক্রেতা সহজে বুবি কিনতে পারছেন। তিনি মৌসুমী ফল ব্যবসায়ীদেও জন্য স্থায়ী হাটের দাবি জানান। পাইকারি বিক্রেতা সবুজ মিয়া বলেন, সূর্য উঠার আগেই আমরা চলে আসি। আমাদের একেকটি ঝুড়িতে ৫/৬ কেজি বুবি থাকে। তবে খুচরা বিক্রেতার কাছে আমরা ঝুড়ি ভিত্তিক চুক্তিতে বুবি বিক্রি করছি।

বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র আব্দুস শুকুর বলেন, পৌরসভায় স্থায়ী একটি পৌর মার্কেট রয়েছে। সেখানে সবজি ও মাছ বিক্রেতার জন্য স্থায়ীভাবে জায়গা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। আমরা মৌসুমী এসব ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদাভাবে জায়গা নির্ধারণ করার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, বুবি’র অস্থায়ী হাট শহরে লোক সমাগম ঘটার আগেই শেষ হয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা চাইলে আমরা নতুন জায়গা নির্ধারণ না করার আগে তারা বর্তমান স্থানেই ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন।