বিশেষ প্রতিনিধি। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭।

রাজনৈতিক কিংবা আঞ্চলিক বিবাদ বা সংঘর্ষে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার হলেও বিয়ানীবাজারে এসব অস্ত্র উদ্ধারে থানা পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। সোমবার দিনভর উপজেলা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ এবং চোরাগুপ্তা হামলার সময় অত্যাধুনিক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র অস্ত্র হাতে মহড়া দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মী।

বিয়ানীবাজারে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বিস্তার লাভ করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ১৯৯১ সালে। সে সময় উপজেলা ছাত্রদলের গ্রুপিং সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা প্রতিপক্ষকে গায়েল করতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছিলো। ক্ষমতা পালাবদলের সাথে সাথে এসব অস্ত্রের হাত বদল হয়েছে। বেড়েছে অস্ত্র আমদানি (অন্য উপজেলা ও জেলা থেকে আনা)। কেউ কেউ নিজস্ব শক্তি বৃদ্ধি এমনকি নিজেদের বলয় ঠিক রাখতে আগ্নেয়াস্ত্রের ভান্ডার সমৃদ্ধও করেছেন।

বিয়ানীবাজারে গত দেড় দশকে রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক দ্বন্দে নাইন শোটারসহ, দু নলা ও একনলা বন্দুক, এলজি, রিবলভার, পিস্তল ব্যবহৃত হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে রিভার বেল্ট ও মূলধারা গ্রুপের সংঘর্ষে বন্দুকদের গুলিতে এক চোখ হারিয়েছেন উপজেলা যুবলীগ নেতা আল আমিন।

গতকাল সোমবার উপজেলা ছাত্রলীগ পল্লব গ্রুপ ও স্বাধীন গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালে রিবলভার হাতে এক তথাকথিত ছাত্রলীগ ক্যাডারকে দেখা গেছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে ‘হমবি-দমবি’ দিতেও সে পিছপা হয়নি। সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুপুরে হামলা ও ভাংচুরের বদলা নিতে স্বাধীন গ্রুপের ছাত্রলীগ ক্যাডাররা ইনার কলেজ রোডে হামলা চালায়। এ সময় জনা পাঁচেক তথাকথিত ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে বন্দুক দেখা যায়। এ সময় তারা আগ্নেয়াস্ত্র উচিয়ে ধরে হামলা চালায়।

সাধারণ মানুষের সামনে এসব অবৈধ অস্ত্রমহড়া হরহামেশা ঘটলেও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অস্ত্রদারিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা- এর কোনটাই করতে পারেনি বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান নিয়ে গত দেড় দশকে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

এ প্রসঙ্গ বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, অবৈধ অস্ত্রদারিতে তথ্য সংগ্রহ করার প্রস্তুতি চলছে। তথ্য প্রাপ্তির পর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্র ব্যবহারকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।