বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বিরুদ্ধে কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলেও তিনি লিজ নিয়ে বালু উত্তোলন করছেন বলে এলাকায় প্রচার করেছেন। তবে প্রভাব খাটিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামায়াত নেতা মাহতাব উদ্দিন।

জানা যায়, কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি বালুমহাল লিজ দেওয়া হলেও বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের দক্ষিণভাগ বালুমহালটি লিজ দেওয়া হয়নি। ২০১৬ সালে বালুমহালটি লিজে স্থগিতাদেশ চেয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন থাকায় জেলা প্রশাসন এটি লিজ দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

সরেজমিন দেখা যায়, নদীর দক্ষিণভাগ (নেরাউদি এলাকার আলীপুর) বালুমহাল থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট উত্তোলিত বালু দুবাগের চরিয়ায় নিয়ে মজুদ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, মাহতাব উদ্দিন বালুমহাল লিজ নিয়ে বালু উত্তোলন করায় তারা কোনো প্রতিবাদ করেননি। তবে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে জানলে তারা প্রতিবাদ করতেন।

নদী তীরবর্তী আলীপুর গ্রামের জোবের আহমদ বলেন, প্রভাব খাটিয়ে নদী থেকে বালু লুট করছেন মাহতাব উদ্দিন। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্যের কথা এলাকায় প্রচার করে অবৈধভাবে বালু তুলছেন তিনি।

উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা এস চৌধুরী হিরণ জানান, গত চার মাসের বেশি সময় থেকে মাহতাব উদ্দিন নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন। তারা জানতেন, সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েই বালু তোলা হচ্ছে।

শেওলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহুর উদ্দিন জানান, অবৈধভাবে কুশিয়ারা নদীর শেওলা অংশ থেকে বালু উত্তোলন করার বিষয়টি এলাকাবাসী গতকাল রোববার তাকে জানিয়েছেন। তিনি বিষয়টি উপজেলার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে জানাবেন।

তবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়কে ভিত্তিহীন দাবি করে জামায়াত নেতা মাহতাব উদ্দিন বলেন, নদী থেকে নয়, দক্ষিণভাগসহ বিভিন্ন বালুমহাল থেকে বালু ক্রয় করে মজুদ করছেন। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ড্রেজারটি তার বলে স্বীকার করলেও সেটি এক বালু ব্যবসায়ীর কাছে ভাড়া দিয়েছেন বলে দাবি করেন।

জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও ইউএনও কাজী আরিফুর রহমান জানান, দক্ষিণভাগে বালু উত্তোলন বিষয়টি তিনি গতকালই জেনেছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাহতাব যদি তার কথা এলাকায় বলে বালু উত্তোলন করেন, তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।