বিয়ানীবাজার পৌরশহরসহ উপজেলার হাটবাজারের প্রায় সবকটি দোকানে মাস্ক পাওয়া যায়। সরকারের মাস্ক ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করায় এখানকার পান-সিগারেটের দোকানেও বিক্রির জন্য রাখা মাস্কের দেখা মেলে। তবে খুব কম দোকানে মাস্ক বিক্রি হতে দেখা যায়। কারণ হাট-বাজারের যত্রতত্র মাস্ক বিক্রি বেড়েছে। এসব মাস্কের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।

বিয়ানীবাজারের পাইকারি মাস্ক ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘মাস্ক নাই সেবাও নাই’-বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন বক্তব্যে মাস্কের চাহিদা বেশ বেড়েছে, একই সঙ্গে বেড়েছে সরবরাহও। তাছাড়া গত চলমান সর্বাত্মক লকডাউনে ব্যবসা ভালোই করেছি, কিন্তু আজ কয়দিন ধরে চাহিদা খুব একটা নাই। কিন্তু উৎপাদন আছে অনেক বেশি। এ কারণে দামও কমছে।

বাজারে সার্জিক্যাল মাস্ক, সুতি কাপড়ের মাস্ক, কেএন৯৫, কেএন৭৫সহ বেবি মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে। তবে এসব মাস্কের মান নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। কিছু কিছু প্যাকেটের গায়ে দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদনের সিল। মানভেদে সার্জিক্যাল মাস্ক এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ১.৪০ থেকে শুরু করে ২ টাকা, আবার প্রতি হাজার বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা। সুতি কাপড়ের মাস্ক প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে শুরু করে ৩০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া কেএন মাস্ক বিক্রি হচ্ছে ১৭ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত।

এক মাস্ক বিক্রেতা বলেন, বাজারে সরবরাহ বেড়েছে অনেক, সে হিসাবে চাহিদা বাড়েনি। মার্কেটের অবস্থা তিন-চার দিন ধরে খারাপ, তবে যে দু-চারজন আসছেন, তাঁদের কাছে সার্জিক্যাল মাস্ক ও শিশুদের মাস্কের চাহিদা একটু বেশি। এখনো ব্যবসার সময় আছে। প্রশাসনিক নজরদারি যত বাড়বে মাস্কের চাহিদা বাড়বে, মানুষ তত বেশি আসবে। আমরা সেদিকে তাকিয়ে আছি।

ফার্মেসী ব্যবসায়ী জবরুল আলম বলেন, খুচরা বাজারে চাহিদা বেশি সার্জিক্যাল মাস্কের। জরিমানার ভয়ে চলতি পথের অনেক মানুষ মাস্ক কিনে পরছে। আমার দোকানে বেশ চাহিদা আছে এ মাস্কের। আমি প্রতিদিন দুই থেকে তিন বক্স বিক্রি করি, প্রতি পিস পাঁচ টাকা করে। আর কেউ এক বক্স নিলে দাম হয় ২৫০ টাকা, থাকে ৫০ পিস মাস্ক।

বাজারে বিপুল মাস্ক সরবরাহ থাকলেও মানের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাঁরা যাচাই-বাছাই করেই মাস্ক কিনছেন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন সিলযুক্ত মাস্ক বিক্রি করছেন।

জানা যায়, দেশে এখনো মাস্ক তৈরির কোনো বাধ্যতামূলক কাঠামো নেই। বিএসটিআইয়ের ওয়েবসাইটে যে তালিকা রয়েছে তাতে ১৮১টি পণ্যের মধ্যে মাস্ক নেই। এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর গোলাম মো. সারোয়ার গণমাধ্যমকে বলেছেন, আসলে এটি স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একটি বিষয়, তাই এ বিষয়ে আমরা এখনো ভাবিনি। আর আমি এ বিষয়ে তেমন কিছু বলতে পারছি না।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

তিলপাড়ায় ইসলামী যুব সংঘের উদ্যোগে অসহায়দের নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান