বিয়ানীবাজার পৌরসভার সুপাতলা জামে মসজিদে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সুপাতলা গ্রামবাসী। মঙ্গলবার বিয়ানীবাজার পৌরশহরের একটি রেস্তুরায়  সংবাদ সম্মেলন করেন সুপাতলা গ্রামবাসী ও মসজিদ কমিটির দায়িত্বশীলরা।

লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন, গত ৩ জুন শনিবার সেহরী খাওয়ার জন্য আমাদের গ্রামের মসজিদের মোয়াজ্জিন মাইকে আহবান জানাচ্ছিলেন। এ সময় এলাকার সমাজ ও ইসলাম বিরোধী, মাদক সেবী ও সন্ত্রাসী সুপাতলা গ্রামের ছমির উদ্দিনের পুত্র মাসুক আহমদ ধারালো দা নিয়ে মসজিদে উপস্থিত হয়। এ সময় মাসুক আহমদ মসজিদের মুয়াজ্জিনকে মাইক বন্ধ করতে বলে। মসজিদের মোয়াজ্জিন হাফিজ মিছবাহ তার এ কথা শুনে মাইক বন্ধ করার কারণ জিজ্ঞেস করলে মাসুক মোয়াজ্জিন সাহেবকে মারতে উদ্যত হয়। এ সময় মাহতাব উদ্দিন মোয়াজ্জিনের জন্য খাবার নিয়ে মসজিদে হাজির হয়ে ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন এবং মাসুক আহমদকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ইসলাম ধর্ম বিরোধী মাসুক আহমদ মাহতাব উদ্দিনের সাথে তর্কে লিপ্ত হওয়ার এক পর্যায়ে তাহার হাতে থাকা দা দিয়ে মাহতাব উদ্দিনকে হত্যার করার উদ্দেশ্যে কুপাতে তাকে। তাহার উপর্যপুরি কুপে মাহতাব উদ্দিন মারাত্মক আহত হন। মসজিদের মোয়াজ্জিন ও মাহতাব উদ্দিনের আর্তচিৎকারে পাশ্ববর্তী বাড়ি থেকে মামুনুর রশীদ জিলু দৌড়ে এগিয়ে আসেন। এ সময় মাসুক আহমদের দুই পুত্র জুয়েল ও রুহেল এবং তাহার জামাতা অস্ত্রবাজ নও মুসলিম বিমল ওরফে সুমনসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী মুহূর্তের মধ্যে জড়ো হইয়া মাহতাব উদ্দিন, মামুনুর রশীদ জিলু’র উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আবারো হামলা চালায়। এতে মাহতাব উদ্দিন ও মামুনুর রশীদ জিলু গুরুতর আহত হন। এলাকার লোকজন সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়ে ও আমাদের চিৎকার ও সাহায্যের আহবান শুনে এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসী বিমল ওরফে সুমন প্রকাশ্যে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে। গুলির চিহ্ন এখনো আমাদের দেয়ালে রয়েছে। ঘটনা এখানে শেষ নয়। ওই দিন সকালে আমরা যখন আহতদের নিয়ে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে তখন বিমল ওরফে সুমন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের বাড়িতে পুনরায় হামলা ও লুটপাটের চেষ্টা চালায়। সন্ত্রাসীদের আক্রমনের ভয়ে আমরা জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত। এ ঘটনায় আহত মামুনুর রশীদ জিলু’র পুত্র ফাইজুল আজিম মিন্টু বিয়ানীবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।  মামলা দায়েরের পর আসামীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন। তারা আমাদের হত্যার জন্য প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে আমাদের এলাকায় মহড়া দিচ্ছে।  সোমবার রাত ৮ টায় সন্ত্রাসী বিমল ওরফে সুমন ও তার বাহিনী নিয়ে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আহত মামুনুর রশীদ জিলুর বাড়িতে হামলা করার জন্য যায়। এ সময় এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে বিমল ওরফে সুমন তার বাহিনী নিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়। সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে হুমকী ও আমাদের বাড়ীতে হামলার ঘটনা আমাদেরকে আতংকিত করে তুলেছে। আমরা আসামীদের হুমকী ও প্রাণ নাশের ভয়ে বাড়িতে থেকে বের হতে পারছি না।