একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্চ মাসের শেষের দিকে কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টলমেন্টে পাক হানাদার বাহিনী নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হত্যা করে বাঙ্গালি সেনা কর্মকর্তাসহ কয়েক শ’ মানুষ। নিহতের মধ্যে ছিলেন মেজর হাসিব। তাঁর বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার কালাইউরা গ্রামে। শহীদ মেজর হাসিবের স্মৃতি রক্ষার্থে নিজ এলাকাবাসীর দাবি বন্দি হয়ে আছে সরকারি ফাইলে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জাতির এ সূর্য সন্তানের স্মৃতিরক্ষায় স্থানীয় জলঢুপ-লাতু সড়কের থানাবাজার থেকে কানলী ব্রিজ পর্যন্ত এবং থানাবাজার ত্রিমোহনীকে শহীদ মেজর হাসিবে নামে নামকরণের দাবি জানিয়ে আবেদন করেন তাঁর নিজ এলাকাবাসী। আবেদনের প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিয়ানীবাজার উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাসখানেক আগে সেই আবেদনটি ইউএনও অফিসে জমা দিলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি।

এলাকাবাসী জানান, শহীদ মেজর হাসিবের নামে স্থানীয় সড়ক ও চত্ত্বরের নামকরণের দাবি সম্বলিত একটি আবেদন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে জমা দেন। তাদের এ দাবির সাথে একাত্বতা জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিয়ানীবাজার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কামান্ডার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষ। তাদের দাবি, আসন্ন বিজয় দিবসের আগেই দেশের জন্য প্রাণ উৎস্বর্গকারি বিয়ানীবাজারের এ কৃতি সন্তানের স্মৃতির রক্ষার্থে করা দাবিগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা।

শহীদ মেজর হাসিবের ভাতিজা আব্দুল হান্নান বলেন, মাসখানেক আগে আবেদনটি ইউএনও অফিসে জমা রেখে এসেছি। আবেদনটি গ্রহণকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মর্কতা আশ্বস্থ করেছিলেন যে, তিনি (ইউএনও) এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মৌসুমী মাহবুব বলেন, আবেদনটি পাওয়ার পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছি। কাজটি প্রক্রিয়াধীন আছে।