এক বছর পূর্বে বিয়ানীবাজার উপজেলাকে বাল্য বিবাহ মুক্ত ঘোষণা করা হলেও আদতে বিয়ানীবাজারের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখন বাল্য বিবাহ অব্যাহত রয়েছে। আজ সোমবার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন মুড়িয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী নওয়াগ্রামে পুলিশ পাঠিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছে। কনের বয়স ১৮ পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও অভিভাবকদের জানিয়ে দেয়া হয়।

বিয়ের বাড়ির পুুরো আয়োজন ছিল। পুলিশ আসার খবর পেয়ে বরকে সরিয়ে নেয়া হয়। বরের অনুপস্থিতে চলে ভোজন পর্ব। বিয়ের আমন্ত্রণে আসা উভয় পরিবারের আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশিদের খাবার খাওয়ানোর বিষয়ে অভিভাবকরা পুলিশকে জানান, উভয় পরিবারের যে সকল আত্মী-স্বজন এসেছেন তাদের আহার করানো হচ্ছে। আমরা কনের বয়স আঠারো পূর্ণ হওয়ার পর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেব।

জানা যায়, মুড়িয়া ইউনিয়নের নওয়াগ্রামের মৃত ইলিয়াস আলীর ছেলে কাঠমিস্ত্রি কামাল উদ্দিন (২৬) এর সাথে প্রতিবেশি মনফর আলীর কন্যা সাদিয়া বেগম বিয়ের হওয়ার কথা ছিল । জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী সাদিয়ার বয়স সাড়ে ১৬ বৎসর। ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সে জন্মগ্রহণ করে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে এসআই মহসিন ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে বিয়ের আয়োজন বন্দ করে দেন।

কনের মাতা আয়শা বেগম বলেন, ‘ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমরা উভয় পরিবার মিলে বিয়ে আয়োজন স্থগিত করেছি। মেয়ের বয়স পূর্ণ হওয়ার পর আমরা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারবো। পুলিশ কর্মকর্তার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিয়ের দাওয়াত পেয়ে যে সকল আত্মীয় স্বজন এসেছেন তাদের খাওয়ানো হচ্ছে। এ খাবার গত রাত্রে থেকে তৈরী করা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের নির্দেশ মেনে মেয়ের বিয়ে বন্দ করেছি।

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আরিফুর রহমান বলেন, আমরা এ বিয়ে পন্ড করে দিয়েছি। এরপরেও ১৮ বছরের আগে বিয়ে দেওয়া হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’