বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রকৃতিতে শীতের আগমন ঘটেছে। ইতিমধ্যে রোদের তাপমাত্রা দিনের বেলায় কমতে শুরু করেছে এই অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে। তাই বিকেল হওয়ার সাথে সাথেই শীতের আবাস পাওয়া যায়। সন্ধ্যা থেকে ভোর হওয়ার পরও হালকা শীত অনুভব করা যায় পুরো পূর্ব সিলেটে। সাধারণত সূর্যের দক্ষিণায়নের কারণে নভেম্বর থেকে শীত অনুভব হতে শুরু করে। তবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রয়ারি পর্যন্ত শীতকাল বলে ধরা হয়। বাংলায় পঞ্জিকা অনুযায়ী পৌষ ও মাঘ এই দুইমাস শীতকাল।

গত দুইদিন ধরে বিয়ানীবাজারসহ পূর্ব সিলেটে জানান দিয়েছে শীতের আগমনী বার্তা। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই আঞ্চলিক মহাসড়কসহ গ্রামীণ রাস্তাগুলোতে কুয়াশা নামতে শুরু করেছে। কুয়াশার কারণে রাস্তা ঠিক মতো দেখতে না পেরে যানবাহণ চলাচলেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চালকদের।

এদিকে, শীতের তীব্রতা জাঁকিয়ে বসেনি এখনো। তবুও লেপ, কম্বল বের করতে শুরু করে দিয়েছেন বাড়ির গৃহিণীরা। শিশুদের শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ প্রত্যন্ত গ্রামের মহিলারা তাদের পুরনো শীতের কাপড় ধৌত করে রোদে শুকাতে দেখা যাচ্ছে। অনেককে আবার লিপ জেল ও শীতের প্রসাধনি কিনতে দোকানে ভিড় করতেও দেখা যায়। এদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষের শীতের একমাত্র অবলম্বন কাঁথা। তাই শীতের প্রকোপ থেকে বাচঁতে এসব পরিবারের নারী সদস্যরা এখন কাজের ফাঁকে তাদের পুরনো কাঁথা মেরামত করার পাশাপাশি পুরনো-নতুন কাঁথা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আবার অনেকে চেয়ে আছেন শীতবস্ত্র পাওয়ার অপেক্ষায়। যদিও সবার ভাগ্যে তা জুটেনা।

আর কৃষকরা অপেক্ষাকৃত উচুঁ জমিতে আবাদ করেছে শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি। ইতিমধ্যে কৃষকদের এ শাক-সবজি হাট-বাজারগুলোতে উঠতে শুরু করেছে। শীতের শাক-সবজির দামও বেশ ভাল। তাই হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখেও। অপরদিকে দ্রব্য মূল্যের লাগামহীন বেড়ে যাওয়ায় সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।

শীতের সময় যেকোন ভাইরাসজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায়। এ সময়ে মানুষের শরীরে ইমিউনিটি কমে যায়। এ কারণে শীতে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু ইসহাক আজাদ ।

আবহাওয়াবিদরা জানান, সিলেটসহ সারাদেশে কমছে তাপমাত্রা। শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোরে শীত অনুভূত হয়। ১৪/১৫ সেলসিয়ায়াস হলে পুরো শীত চলে আসে। এখন থেকে প্রতিদিনই তাপমাত্র কমবে। কমতে কমতে ২০ তারিখের মধ্যে তাপমাত্রা ১৪/১৫ সেলসিয়ায়াসে চলে আসবে।