বড়লেখায় পান্না বেগমকে (৩০) হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন স্বামী মতছিন আলী (৩৩)। শনিবার বিকেলে মৌলভীবাজারের বন আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সাইফুর রহমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোশাররফ হোসেন রোববার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মতছিন স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

থানা পুলিশ জানায়, প্রায় ১০ বছর আগে বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের কলারতলিপার গ্রামের মৃত মাহমুদ আলী ওরফে মাখই মিয়ার ছেলে মতছিন আলীর সঙ্গে বিয়ানীবাজার উপজেলার পাড়িয়াবহর গ্রামের ইসমাইল আলীর মেয়ে পান্না বেগমের বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। চার মাস আগে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি পাড়িয়াবহরে চলে যান পান্না বেগম। ওই সময় বড় মেয়ে সুহানাকে (৭) শ্বশুর বাড়ির লোকজন রেখে দেয়। সম্প্রতি সুহানা নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ইটাউরী গ্রামে তার ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। মেয়ে সুহানার অসুস্থতার খবর পেয়ে পান্না বেগম তাকে দেখতে ইটাউরীতে আসেন। সোমবার সুহানাকে স্থানীয় এক হুজুরের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় দৌলতপুর এলাকার একটি মসজিদের পাশের রাস্তায় পান্নার স্বামী মতছিন তাকে বাধা দেয়। একপর্যায়ে মতছিন পান্নাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তার মৃত্য হয়।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, মতছিনের মোবাইল ট্র্যাকিং করে শুক্রবার তার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। এদিন দুপুরে বড়লেখা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।