বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের একটি অংশে থানা পুলিশের চারখাই ফাড়ির পুলিশ সদস্যরা ব্যবহার করেন। আজ বুধবার ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের একটি টিউবয়েল মেরামত করা নিয়ে প্রথমে শ্রমিক এবং পরে ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে পুলিশ সদস্যরা খারাপ আচরণ করেন। এ নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে অসদাচারণ করে পুলিশ ফাড়ির এসআই শফিকুল ইসলাম পাঠোয়ারি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু: আসাদুজ্জামান এবং বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি অপারেশন) মোশারফ হোসেন। প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে চারখাই ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইব্রাহীম আলী ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনসহ পরিষদের সদস্য ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করছেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা চলছে।

চেয়ারম্যান মাহমুদ আলীর সাথে এসআই শফিকুলের অসদাচারণ ঘটনাটি জানাজানি হলে ফুঁসে উঠেন চারখাইবাসী। তারা তৎক্ষনাত ইউনিয়ন কমপ্লেক্সের ভেতরে পুলিশ ফাড়িতে উপস্থিত হয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন। স্থানীয় পুলিশ ফাড়ির অবরোধ করার সময় চেয়ারম্যান তাদের শান্ত থাকার আহবান জানান। এতে স্থানীয়রা পুলিশ ফাড়ি অবরোধ না করে ইউপি কমপ্লেক্সের পুরো এলাকায় অবস্থান নেন।

জানা যায়, সকালে ইউনিয়ন পরিষদের টিউবয়েল মেরামত করতে চেয়ারম্যান কয়েকজন শ্রমিক পাঠান। তারা পরিষদের টিউবয়েল কাজ করতে গেলে দায়িত্বরত কনস্টেবল বাধা দেন। বিষয়টি চেয়ারম্যান মাহমুদ আলীকে জানান শ্রমিকরা। তিনি পরিষদে এসে কি হয়েছে জানতে চাইলে দায়িত্বরত কনস্টেবল এসআই শফিউল পাঠোয়ারির নির্দেশে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে জানিয়ে চেয়ারম্যানকে বলেন, স্যারের অনুমতি ছাড়া এখানে কোন কাজ হবে না। চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী এসআই শফিউল পাঠোয়ারির সাথে যোগাযোগ করলে চেয়ারম্যানের সাথে দায়িত্বশীল এসআই অসদাচারণ করেন। এক পর্যায়ে এসআই শফি চেয়ারম্যানকে বলেন, কমপ্লেক্সের ভেতরে তার অনুমতি ছাড়া কোন কাজ কেউ করতে পারবে না। এতে দুই জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ঘটে।

আমাদের চারখাই সংবাদদাতা শহিদুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানের সাথে পুলিশের অসদাচরণ ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা ইউনিয়ন পরিষদের জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করছেন। কোন অবস্থায় জনস্রোততে শান্ত করতে পারছেন না স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ বিষয়টির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু: আসাদুজ্জামান সুষ্ঠুভাবে সমাধান করে দেয়ার আশ্বাস দেয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত রয়েছে। স্থানীয়রা কি সমাধান হয় এ বিষয়টি জানার জন্য এখনো ইউপি পরিষদ প্রাঙ্গনে অবস্থান করছেন।

মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে চারখাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলীকে পাওয়া যায়নি।

বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি সমাধান হওয়ার পথে। সামান্য বিষয় নিয়ে দুই দায়িত্বশীলদের মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি ঘটে ছিল।