বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪। ২২ মার্চ ২০১৭।

বিয়ানীবাজারের ঘুঙ্গাদিয়া-বড়দেশ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেহানা আক্তার ইভার (১৫)মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক তার মৃতু হয়েছে জানান। ইভা দুপুরের দিকে স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো জানিয়ে পরিবারের অভিযোগ সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে তাকে বাঁচানো যেত। শিক্ষকরা তার অসুস্থতা নিয়ে খামখেয়ালী আচরণ করেছেন।

ইভার আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, সহপাঠিসহ পুরো এলাকায় জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুর খবর শোনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা ইভার পরিবারের সাথে দেখা করে সমবেদনা জানিয়েছেন। সোমবার রাতে পারিবারিক কবরস্থানে ইভাকে সমাহিত করা হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গাদিয়া ফুলআলা গ্রামের ফখর উদ্দিনের ছোট মেয়ে ইভা ঘুঙ্গাদিয়া বড়দেশ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সোমবার দুপুরের দিকে ইভা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার মাথা ধরা দেখা দিলে সহপাঠীরা বিষয়টি ফাতেমা নামের শিক্ষিকা অবহিত করেন। কিছুক্ষণ পর শিক্ষিকা ফাতেমা খাতুন অসুস্থ ইভাকে দেখে একা বাড়ি যেতে পারলে চলে যাওয়া বলে আবার নিজ কাজে চলে যান। বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলছে। ইভা একা বাড়ি যেতে পারেনি। বিদ্যালয়ে থাকাবস্থায় বিকালে ৩টার দিকে তার অহস্য মাথা ধরা দেখা দেয়। ব্যথায় ছটফট করতে থাকে ইভা। বিষয়টি পুনরায় সহপাঠীরা জানালে শিক্ষকরা ইভার বাড়িতে খবর দেন।

খবর পেয়ে ইভার বড় ভাই আলী আহমদ বিদ্যালয়ে এসে ইভাকে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ফাতেমা খানম ও ডাঃ রাবিয়া বেগম ইভাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর লাশ বাড়িতে নিয়ে এসে রাতেই ইভাকে পারিবারিক গোরস্থানে সমাহিত করা হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মোছাঃ ফাতেমা খাতুন বলেন, এ সময় মেয়েদের শারীরিক কিছু সমস্যা থাকে। সেরকম কিছু হলে মেয়েরা ঘাবড়ে যায় এবং যন্ত্রণা অনুভব করে। বিষয়টি সেরকম কিছু বলে আমাদের ধারণা ছিল। তবে তার শারিরীক অবস্থা স্বাভাবিক মনে না হওয়ায় আমরা বাড়িতে খবর দেই। তিনি বলেন, ইভা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ছুটি দেয়া হয়। কিন্তু কাউকে সাথে না পেয়ে সে হয়তো একা যেতে ভরসা পায়নি।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, ইভার এমন মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। এ বয়সে মৃত্যু অপ্রত্যাশীত। আমরা সবাই মর্মাহত। তিনি বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়া আমি নিজে থেকে খোঁজ কবর নিয়েছি এবং নিচ্ছি। এ বিষয়ে শিক্ষককের কর্তব্য পালনে অবহেলা কোন কারণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইভার চাচা তাজুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বিদ্যালয়ে সুস্থভাবে যাওয়ার পর মেয়েটি সেখানে অসুস্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত মারা গেলো। অথচ শিক্ষকরা অসুস্থ মেয়েটির চিকিৎসা করানোর বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেননি। এটা তারা চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের অবহেলার কারণেই ইভার এমন মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষকরা যদি “খেলা বন্ধ” রেখে ইভাকে সময়মত হাসপাতালে নিয়ে যেতেন, তাহলে তাঁর এমন করুণ মৃত্যু হত না।