দখল-ভরাটে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বিয়ানীবাজার উপজেলার চার ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম স্বরসতি খাল বা করতিরখাল। খালটির উৎসমুখ কুশিয়ারা নদী হলেও বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতে নষ্ট হতো চার ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষকের ফসলি জমি। প্রতিবছরই বোরো চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো তাদেরকে। সেজন্য করতিরখাল পুনঃখননের দাবি ছিল এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের।

অবশেষ অবসান ঘটছে সেই দুশ্চিন্তার। দখল-ভরাটে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া সেই খালটি পুনঃখনন করা হচ্ছে। এতে উপজেলার কুড়ারবাজার, শেওলা, চারখাই ও আলীনগর ইউনিয়নের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী বলছেন, শুধুমাত্র চষাবাদই নয়, খাল খনন শেষ হলে বন্যার ভয়াবহতা থেকেও রক্ষা পাবে অন্তত সহস্রাধিক পরিবার। আর তাই খাল পুনঃখনন কাজে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তদারকি অব্যাহত রাখার দাবি স্থানীয় এলাকাবাসীর।

জানা গেছে, সরকারিভাবে নকশায় স্বরসতিখাল বা করতিরখালের নামোল্লেখ বা চিত্র থাকলেও পুর্বে কখনো খনন না করায় সৃষ্টি হতো জলাবদ্ধতা। এতে চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে পড়তো হো সেখানকার কৃষকদের। আর তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে ও ভূগর্ভস্থ পানি চাপ কমিয়ে বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ডে দৌড়ঝাপ শুরু করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরে একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে খালের ১ কিলোমিটার পর্যন্ত পুনঃখননের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেট।

এ ব্যাপারে কুড়ারবাজার ইউপি চেয়ারম্যান এএফএম আবু তাহের বলেন, দীর্ঘ ভোগান্তির পর করতিরখাল পুনঃখনন শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের বহুল প্রত্যাশিত দাবির বাস্তবায়ন ঘটছে। সঠিকভাবে যাতে কাজ সম্পন্ন হয় সে ব্যাপারে আমি ও আমার পরিষদ সর্বদা তৎপরতা রাখছি। তিনি বলেন, করতির খাল পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হলে আগাম বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে চার ইউনিয়ন। সেই সঙ্গে ওই এলাকার আবাদি জমিগুলোতে বৃদ্ধি পাবে ফসল উৎপাদন।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারে এক খাল খননে খুশি হাজারো কৃষক, স্লুইসগেট অপসারণের দাবি