বিয়ানীবাজার নিনউজ ২৪। ২৯ মার্চ ২০১৭।

ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, নতুন সহস্রাব্দের সম্পদ হচ্ছে জ্ঞান। আমরা শিক্ষকরা এ সম্পদ শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বৃদ্ধি করছি। তিনি বলেন, আমাদের কোন গ্যাস, কয়লা, সোনা কিংবা হীরক খনির দরকার নেই। শুধু শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের সম্পদ সঠিকভাবে বৃদ্ধি করতে পারলে আমরা এগিয়ে যাব। শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তিতে জাগ্রত করে এগিয়ে যাওয়া মন্ত্র জানিয়ে ড. জাফর ইকবাল বলেন, কল্পনা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে খুব বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। কোনভাবে ছোট কিছু যেন তোমরা কল্পনা না করো। তিনি বলেন, আমাদের দেশের ৪ কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে- যা অস্ট্রেলিয়ার লোক সংখ্যার দ্বিগুণ। এসব শিক্ষার্থীর অর্ধেক ছেলে অর্ধেক মেয়ে। অথচ যারা আমাদের পরাধীন করে রাখার পরিকল্পনা করেছিল তাদের দেশ পাকিস্তানে মেয়েরা স্কুলে যেতে পারেনা। সেখানে মেয়েরা স্কুলে যেতে চাইলে তাদের মাথায় গুলি করা হয়। তিনি পাকিস্তানের জঙ্গি হামলায় আহত মালালা ইউসুফের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে দুই লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এ দেশ কোন অপশক্তির কাছে মাথা নত করবে না। ড. জাফর ইকবাল বলেন, যে দেশে সমানভাবে ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করে, সমানভাবে সর্বক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করে সেই দেশকে কোনভাবে দমিয়ে রাখা যাবে না। আমরা আমাদের মতো করে এগিয়ে যাব।

আজ বুধবার বিকালে দুই দিনব্যাপী বিয়ানীবাজারের কসবা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রজত জয়ন্তী উৎসবের প্রথম দিনের আলোচনা পর্বের প্রধান অতিথি হিসাবে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

[image link=”http://138.197.71.33/wp-content/uploads/2017/03/zafore-29-1.png” img=”http://138.197.71.33/wp-content/uploads/2017/03/zafore-29-1.png” caption=” প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল “]

রজতজয়ন্তী উদযাপন পরিষদের আহবায়ক সাহেদ আহমদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম কিবরীয় তাপাদার বলেন, সিলেট সদর উপজেলা ছাড়া তিন পাবলিক পরীক্ষার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী বিয়ানীবাজারের। এসব পরীক্ষার্থী অর্ধেক আমাদের মেয়েরা। এই স্বর্ণ কন্যাদের হাত ধরে স্বাধীন বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি আদর্শ দেশ হিসাবে জায়গা করে নেবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৫০টি দেশের স্বাধীনতা দিবস রয়েছে জানিয়ে বলেন, সোনার বাংলা ছাড়া আর কোন দেশের বিজয় দিবস নেই। আমরা বীরের জাতি- কোন অপশক্তির কাছে আমরা মাথা নত করবনা। তিনি রাজনৈতিকভাবে জঙ্গিবাদ মোকাবেলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে বলেন, এসব অপশক্তির মোকাবেলা করতে হলে আমাদের সুস্থ-সুন্দর বাঙ্গালী সংস্কৃতিকে লালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু: আসাদুজ্জামান, শিক্ষাবিদ আলী আহমদ, বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাসিব মনিয়া।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল আলম সেলিম, তামান্না বেগম ঝুমি ও সুবর্ণা আচার্য্য’র যৌথ সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কবি ফজলুল, প্রাক্তন শিক্ষক আব্দুস সালাম, শাহিদুর রহমান শাহিন ও এনাম উদ্দিন।

সকাল ১০টা জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা মাধ্যমে রজতজয়ন্তীর অনুষ্ঠান শুরু হয়। দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেন। বেলা আড়াইটায় বেলুন উড়িয়ে রজতজয়ন্তীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল ও বিশেষ অতিথি সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরীয়া।

এ সময় সিলেট শিক্ষাবিদ আলী আহমদ, সিলেট জেলা পরিষদের সদস্য নজরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হারুনুর রশিদ দিপু, গোলাপশাহ সমাজক্যলাণ সংস্থার সভাপতি নজরুল হোসেন, গোলাপশাহ কিশোর সংঘের সভাপতি আফজাল হোসেন সাজু প্রমুখ।