লোকবল সংকটে শুধু সিলেট জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ই নয়, উপজেলা কার্যালয়গুলোর সার্বিক কার্যক্রমও মুখ থুবড়ে পড়েছে। কোন কোন উপজেলা কার্যালয়ে প্রায় ৯৯ ভাগ পদই শূন্য।

সিলেট জেলাসহ গোলাপগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, জকিগঞ্জ, দক্ষিন সুরমা, বিশ্বনাথ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, বিয়ানীবাজার ও ওসমানীনগর উপজেলা মহিলা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা চলছে। কার্যালয়গুলোর অধিকাংশ পদই শূন্য।

সিলেটের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছে জেলা ও উপজেলা মহিলা কর্মকর্তার কার্যালয়। নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের মূলস্রোতে ফিরিয় আনতে মহিলা অধিদপ্তরের অধিনে থাকা এই কার্যালয়গুলোর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ জনবল সংকটে দীর্ঘদিন থেকে অফিসগুলোতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বারবার কর্তৃপক্ষকে জানালেও কার্যকর কোন উদ্যোগই নেয়া হচ্ছেনা।

সিলেট জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের ১৪টি পদের ৮টি পদই খালি পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে।

এছাড়া ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, বিশ্বনাথ, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলার প্রত্যেকটিতে ৩টি করে পদ থাকলেও ২টি করে পদ শূণ্য।

গোয়াইনঘাট উপজেলা মহিলা কর্মকর্তার কার্যালয়ে পদ ৬টি। এরমধ্যে ৩টি পদই শূণ্য। বিয়ানীবাজার উপজেলা মহিলা কর্মকর্তার কার্যালয়ে পদ ৪টি। এরমধ্যে একটি ছাড়া অন্যসবগুলো পদই শূণ্য। এছাড়া গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৪টি পদের ২টিই শূণ্য।

কোম্পানীগঞ্জ, বিশ্বনাথ জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও বিয়ানীবাজার উপজেলা কার্যালয়গুলো দীর্ঘদিন যাবত চলছে বড়কর্তাহীন।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিনা আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা সমাধানের জন্য লিখিত আবেদন করলেও সংশ্লিষ্টদের টনক নড়ছে না। সার্বিক কার্যক্রম চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের ইতিবাচক সব উদ্যোগের একটি হল জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়। বিনামুল্যে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ প্রদান, ট্রেনিংয়ে অন্যতম মহিলাদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ, আধুনিক দর্জি বিজ্ঞান, মোবাইল সার্ভিসিং, শিশু দিবাযত্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র- সিলেটভিউ২৪