ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন ছিল গত সোমবার। দিনটি উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব অহিংস দিবস। এরই অংশ হিসেবে গতকাল শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নাট্যদল ইউনিভার্সেল থিয়েটার মঞ্চস্থ করে মহাত্মা গান্ধীর নোয়াখালী সফর ও অহিংস পথের যাত্রা নিয়ে নাটক ‘মহাত্মা’। এর রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন মাজহারুল হক পিন্টু।

নাটকটির কাহিনীতে দেখা যায়, উপমহাদেশের রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্তের জটিল পরম্পরায় ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর নোয়াখালীতে দাঙ্গা হয়। এর পেছনে ছিল ভারতবর্ষের সাম্প্রদায়িক ঐক্যকে বিনষ্ট করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। সুবিধাবাদী ও ধর্মান্ধরা সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সেতু, রাস্তা ও ডাকঘরের ওপর হামলা চালানো হয়। গ্রামের পর গ্রামে লাগিয়ে দেওয়া হয় আগুন। ব্যাপক লুটপাট, নরহত্যা, নারী হরণ, নারী নির্যাতন করা হয়। সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা মহাত্মা গান্ধীর কাছে যখন এ সংবাদ পৌঁছায়, তিনি অসহায় মানুষের ভাবনায় অস্থির হয়ে ওঠেন। মাত্র দু’জন সঙ্গীসহ অসুস্থ শরীর নিয়ে রওনা হন নোয়াখালীর উদ্দেশে। গান্ধীজি স্ট্মরণ করিয়ে দেন, ‘আমরা নিছক পশু নই- আমরা মানুষ।’ সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘোর অন্ধকারের মধ্যে তিনি অহিংসার আলোর সন্ধানে নামলেন।

নাটকটি প্রসঙ্গে ইউনিভার্সেল থিয়েটারের সভাপতি আজিজুল পারভেজ বলেন, ‘গান্ধীজির অহিংস পৃথিবীর অনন্ত যাত্রায় কোথায় আজ আমাদের অবস্থান? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সমকালীন প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ইতিহাসের সেই অবিস্ট্মরণীয় অধ্যায়ের একটি অংশের রূপক ঘটনার ভেতর দিয়ে নাটক ‘মহাত্মা’।

এ নাটকে কংগ্রেস নেতা সুকুমার ভট্টাচার্য্য চরিত্রে অভিনয় করেন বিয়ানীবাজার মঞ্চ নাটকের পুরোধা ব্যক্তিত্ব আব্দুল ওয়াদুদ। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন আবুল কালাম আজাদ, শওকত মনসুর রিয়াদ, আবুল হোসেন খোকন, মাজহারুল হক পিন্টু, সুমী ইসলাম, দীন ইসলাম শ্যামল, রাসেল ও জাহিদ।