বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪। ১০ এপ্রিল ২০১৭।

হিন্দু ভোট বলতে শতভাগ নৌকার- এ ধারণা পাল্টে যেতে পারে বিয়ানীবাজারে! নৌকার এ ভোটে ভাগ বসাতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। হিন্দু কমিউনিটির অনেক দায়িত্বশীলদের সাথে আলাপ করে এ আভাস পাওয়া গেছে। নৌকার পাশাপাশি স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী তফজ্জুল হোসেন (জগ) ও আবুল কাশেম পল্লবের (মোবাইল ফোন) দিকে হিন্দু ভোটাররা আকৃষ্ট রয়েছেন। তবে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগই পারে এসব ভোটারদের মূল স্রোতে নিয়ে আসতে।

পৌরসভার নয়াগ্রাম, খিদির গ্রাম, পন্ডিৎপাড়া, ফতেহপুর, দাসগ্রাম, নিদনপুর ও সুপাতলায় হিন্দু ধর্মের লোকজনের বসবাস। এ সাত গ্রামের সাথে ভাসমান (ব্যবসায়ী) ভোটার মিলিয়ে ৩ হাজারের কাছাকাছি ভোট রয়েছে সনাতন ধর্মের লোকজনের। এসব ভোট যেদিকে মোড় নেবে ভোটের ফলাফলে নিয়ামক হিসাবে কাজ করবে বলে সাধারণের ধারণা। কোন কোন কেন্দ্রে এসব ভোট ফেক্টর হতে পারে। কেন্দ্রের ফলাফলে এর প্রভাবও পড়বে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

দীর্ঘদিন পৌরসভার দায়িত্বে থাকায় এসব ভোটাদের খুব কাছাকাছি থাকার সুযোগ পান স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তফজ্জুল হোসেন। ফলে এ কমিউনিটির নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের সাথে তার যোগাযোগ খুবই মধুর। তাই তফজ্জুলের কর্মী সমর্থকরা মনে করেন, হিন্দু ভোটাররা এবার নৌকার বিপক্ষে ভোট দেবেন।

তফজ্জুল হোসেন দীর্ঘদিন থেকে পৌরসভায় বসবাসকারী হিন্দুদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখলেও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা এক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছেন। যার কারণে নৌকার ভোটাররা এবার আঞ্চলিক ও ব্যক্তিগত প্রীতিতে মুগ্ধ রয়েছেন। যদি তাদের সে মুগ্ধতা না ভাঙ্গে তাহলে নৌকা এ সম্প্রদায়ে তেমন সুবিধা করতে পারবে না। দেখার বিষয় আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরা কি ভূমিকা রাখেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কাশেম পল্লবের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। ছাত্রলীগ পল্লবগ্রুপের অনেক নেতাকর্মী হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত থাকায় তার সমর্থকরা এ সম্প্রদায়ের ভোট অধিকাংশ নিজেদের প্রতীকে পড়বে বলে দাবি করছেন। তাদের সে দাবি যৌতিকতা কতঠুকু রয়েছে তা নির্ধারণ করবে ২৫ এপ্রিল পৌর নির্বচনের ভোটে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব ও পরবর্তী সময় পর্যন্ত বিয়ানীবাজারের হিন্দু ধর্মের ভোট নৌকার পালে হাওয়া দিয়েছে। এবার পৌরসভা নির্বাচনে বিশাল এ ভোট মেয়র নির্ধারণে ফেক্টর হতে পারে। যার দিকে এসব ভোট ধাবিত হবে তিনিই মেয়র নির্বাচনে অনেকটা এগিয়ে যাবেন- সেটা চোখ বুঝে বলে দেয়া যায়।

সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হিন্দু কমিউনিটির জনৈক নেতা বলেন, আমরা ভোট দিলেও নৌকা না দিলেও নৌকা। এখানে বিজয়ী হলে প্রতিদ্বন্দ্বি মেয়র প্রার্থী হিন্দু ভোটারদের দিকে আঙ্গুল তুলবেন। যার ফলে আমাদের অনেক ভেবে চিন্তে নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে হবে। যাতে আমরা উপযুক্ত একজন অভিভাবক নির্বাচিত করতে পারি।