বিয়ানীবাজার পৌরসভা দেশের মধ্যে সবচেয়ে নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন শহরের দিক থেকে প্রথম পর্যায়ে পড়ার সমস্ত উপদান বিদ্যামান। পৌরসভা জুড়ে ময়লা-আবর্জনা স্তুপ, ড্রেন থেকে সড়কে উপচে পড়ছে ময়লা পানি-দুর্গন্ধ, সড়কে সড়কে জলাবদ্ধতা- এসব কারণে অপরিচ্ছন্ন শহরের উপাদিতে ভূষিত করেছেন পৌরবাসী। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রার্থীরা সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

পৌরশহরের উত্তরবাজার থেকে দক্ষিণবাজার, মাঝবাজার থেকে কলেজ রোড, টিএনডটি রোড, উপজেলা চত্বর, পোস্ট অফিস রোড, দাসগ্রাম রোড, ইনার কলেজ রোডের ড্রেনে উপচে পড়া নোংরা পানি-দুর্গন্ধে অতিষ্ট পৌরবাসী। পৌরসভা ও শহরের বিভিন্ন স্থানে ময়লা আবর্জনায় স্তুপ দেখা যায়। এছাড়া কদাকার সড়কের চলাচল বিড়ম্বনা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌছে। বিশেষ করে মেইন রোডে অস্থায়ী মাছ ও সবজি বাজার এলাকার অবস্থা এতো নাজুক- জরুরী প্রয়োজন না পড়লে ওই সড়ক কেউ হেঁটে যেতে চায় না।

২০০১ সালে বিয়ানীবাজার সদর ইউনিয়নসহ পাশর্^বর্তী কুড়ারবাজার, মুড়িয়া ও মোল্লাপুর ইউনিয়নের আংশিক নিয়ে বিয়ানীবাজার পৌরসভা ঘটিত হয়। আইনী জটিলতা ও উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় প্রথম বারের মতো ১৬ বছর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫ এপ্রিল। পৌরবাসীর দাবি, একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ যে উপহার দেবে সে-ই হবে প্রথম নগর পিতা।
প্রবাসী অধ্যুসিত এলাকার হওয়ার সুবাদে বিয়ানীবাজারের মানুষ খুব পরিচ্ছন্ন ও পরিপাঠী জীবন যাপনে অভ্যস্থ। পৌরবাসী পরিপাঠী জীবনের সাথে বেমানান পৌরসভার পরিবেশের। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ।

কলেজ রোডের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, বৃষ্টির হলেই পুরো এলাকা কদাকার হয়ে পড়ে। ড্রেন থেকে উপড়ে উঠে ময়লা পানি। এতে বিকট দুর্গন্ধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসা কষ্টকর হয়ে পড়ে।

প্রধান সড়কে (মাছ বাজার এলাকা) সাদা কাপড় পরে কেনাকাটা করতে এসেছেন বৃদ্ধ হারিছ উদ্দিন। তিনি বলেন, পৌরশহরে আসার পর কাপড়ের অবস্থা এতোই নাজুক হয়ে পড়ে তা বলে বুঝানো যাবে না। পৌরবাসীর নিত্য সঙ্গী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও কদাকার সড়ক।

পৌরসভার নিত্য দুর্ভোগের বিষয়টি মেয়র প্রার্থীদের প্রচারণায়ও স্থান পেয়েছে। বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী আবু নাসের পিন্টু বলেন, বিয়ানীবাজার পৌরসভার মানুষজনের আচার, ব্যবহার এবং আধুনিক জীবন যাপন যেকোন  বড় শহরের মতো। এতো পরিচ্ছন্ন একটি সমাজ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন থেকে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে। মানুষ হাসফাঁস করছে এ থেকে উত্তরণের। আমার লক্ষ্য সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আব্দুস শুকুর বলেন,  দেশের মধ্যে কোন পৌরবাসী এতো দুর্ভোগ পোহাচ্ছে না। ঘর থেকে বের হয়েই পৌরবাসীকে ময়লা, আবর্জনাময় সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়। আমি নির্বাচিত হলে সর্ব প্রথম স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করবো এবং পরিচ্ছন্ন পৌরসভা উপহার দেবো। এটা পৌরবাসীর নাগরিক অধিকার।
পৌরসভার প্রশাসক ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তফজ্জুল হোসেন বলেন, রাজনৈতিক বৈরীতার কারণে পৌরসভায় জঞ্জাট তৈরী করছে একটি পক্ষ। এরাই আবার পৌর প্রশাসকসহ দায়িত্বশীলদের উপর দোষ চাপাচ্ছে। আমরা সব সময় চেষ্টা করছি পৌরশহরসহপুরো পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে। কিন্তু বৈরীতার কারণে সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠেনা।