বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য বাজার আরো সম্প্রসারণ করতে সরকার এবার বিয়ানীবাজার সীমান্তবর্তী নওয়াগ্রামে সীমান্ত হাট বসানোর পরিকল্পনা করছে। এর লক্ষ্যে মঙ্গলবার প্রস্তাবীত সীমান্ত হাটের জায়গা পরিদর্শন করেন সরকারে দুই শীর্ষ কর্মকর্তা। এ বাজার স্থাপিত হলে বিয়ানীবাজার ও বড়লেখার সীমান্ত অধিবাসীর জন্য সুফল বয়ে আনবে। সাপ্তাহিক এ বাজারে দুই দেশের সীমান্তবর্তী মানুষের বাণিজ্যিক প্রসার ও পারিবারিক যোগাযোগেরও একটি ক্ষেত্র তৈরী করবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের পূর্ব মুড়িয়ার নওয়াগ্রামে সীমান্ত হাটের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫২ ব্যাটালিয়ন’র অধিনায়ক ফয়েজ আহমদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আরিফুর রহমানকে সাথে সীমান্ত হাটের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেন সরকারের এ শীর্ষ কর্মকর্তা।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. আব্দুস শুকুর, বিয়ানীবাজার উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) জেসমিন আক্তার, বিজিবি সীমান্তবর্তী নওয়াগ্রাম ফাঁড়ির ইনচার্জ লায়েক সুবেদার জাকির হোসেনসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।

বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মেঘালয়ের কালীচরণ ও বালাটে দুই সীমানা হাট অবস্থিত এবং ত্রিপুরার দুটি শ্রীনগর ও কমলসাগরে অবস্থিত।

সীমান্ত হাটগুলিতে বাণিজ্য ভারতীয় রুপি / বাংলাদেশ টাকায় এবং বস্তু বিনিময়-এর ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং এই ধরনের তথ্য সংশ্লিষ্ট সীমান্ত হাটের হাট ব্যবস্থাপনা কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার কর্তৃক গৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ পর্যন্ত পাঁচ বছরের মধ্যে চার সীমান্ত হাটগুলিতে ১৬৮৬.৬২ লাখ টাকার সমতুল্য নগদ বাণিজ্য হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারত সরকার এ পর্যন্ত ৬টি সীমান্তের হাট অনুমোদন করেছে: পাল্বস্তি ও কামালপুরে ত্রিপুরাতে দুটি এবং ভোলগঞ্জ, নলিকাটা, শিবাবাড়ী ও রায়ঙ্গ্কুতে মেঘালয়ে চারটি সীমান্ত হাট রয়েছে।

সীমান্ত হাটগুলোতে উভয় দেশের অভ্যন্তরে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী অধিবাসীরা পণ্য বিক্রি করতে পারেন। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন এই হাট বসে। তবে হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমতি সাপেক্ষে সপ্তাহে একাধিক দিনেও হাট বসতে পারে। উভয় দেশের ৫০ জন বিক্রেতা এই হাটে ব্যবসা পরিচালনা করেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে হাট ব্যবস্থাপনা কমিটি অনুমোদিত বিক্রেতাদের তালিকা সংরক্ষণ করেন। হাটে উভয় দেশের দু’পাশে দুটি প্রবেশ পথ থাকে। এছাড়া হাটের সীমানা কাটাতারের প্রাচীর দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়। হাটের ক্রেতা-বিক্রেতাদের ছবি সম্বলিত পরিচয়পত্র বহন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অনুমোদিত ফরম্যাটে পরিচয়পত্র ইস্যু করেন। সীমান্ত হাটে স্থানীয় মুদ্রায় অথবা বার্টার পদ্ধতিতে পণ্য বিনিময় করা হয়। সীমান্ত হাটে প্রত্যেক ক্রেতা প্রতি হাটে ২০০ ডলারের সমমূল্যের পণ্য স্থানীয় মুদ্রায় ক্রয় করতে পারবেন।