বিয়ানীবাজারের চারখাইয়ে চানাচুর বিক্রেতা বা এবং মাকে বেঁধে এসএসসি উত্তীর্ণ দু্র্ষই বোনকে ধর্ষণ মামলার আসামীদের মধ্যে পাঁচ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। রোববার দুপুরে সিলেট অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক জুলফিকার হায়াত এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে একজনকে বেখসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে এবং দণ্ডিত প্রত্যেককে  এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিামানার টাকা আক্রান্ত তরুণীদের প্রদান করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন আদালত।

আদালতের অতিরিক্ত পিপি ফখরুল ইসলাম জানান, রায়ে বিয়ানীবাজার উপজেলার পূর্ব পইলগ্রামের মকদম আলীর ছেলে জয়নুল ইসলাম, একই গ্রামের সেলিম আহমদ, কালাম আহমদ, হাসান আহমদ হাসু ও আব্দুল বাছিতকে যাবজ্জীবন কারাদ- প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে আব্দুল বাছিত পলাতক রয়েছেন। আরেক আসামি খায়রুল ইসলাম মাতুলকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথির বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পিপি ফখরুল ইসলাম জানান, ২০১৪ সালের ২৫ মে ভোর রাতে ৭/৮ জন মুখোশধারী বিয়ানীবাজারের চারখাই ইউনিয়নের এক চানাচুর বিক্রেতার ঘরে সিঁদ কেটে ঢুকে। অস্ত্রের মুখে স্ত্রীসহ চানাচুর বিক্রেতাকে বেঁধে রেখে তাদের দুই মেয়েকে ধর্ষণ করে। ওই দুই বোন সেবছর এসএসসি উত্তীর্ন হয়েছিলেন।
এ ঘটনায় ২৫ মে রাতে উপজেলার পূর্ব পইলগ্রামের মকদম আলীর ছেলে জয়নুল ইসলামের নাম উল্লেখসহ আরও পাঁচজনকে আসামি করে বিয়ানীবাজার থানায় মামলা করেন মেয়ে দুটির বাবা।

একই বছরের ১২ অক্টোবর ছয় জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিয়ানীবাজার থানার তৎকালীন ওসি আবুল কালাম আজাদ। মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ধর্ষিতা কিশোরীদের বাবা উচ্চ আদালতে গিয়ে আসামীরা যাতে ছাড়া না পায় সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।