বিয়ানীবাজারে ৬৯ তম ঐতিহাসিক নানকার দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে শনিবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের সানেশ্বর-উলুউরি মধ্যস্থল সোনাই নদীর তীরবর্তী স্থানে স্থাপিত স্মৃতি সৌধ্যে পুষ্পার্ঘ অর্পন করে এই বিদ্রোহে নিহত কৃষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ,বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ড, বাংলাদেশর কমিনিস্ট পার্টি বিয়ানীবাজার উপজেলা শাখা, নানকার স্মৃতি রক্ষা পরিষদ, নানাকার বিদ্রোহ স্মৃতি পাঠাগার, বিয়ানীবাজার জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ,  উলুউরি নানকার সমাজকল্যাণ সংস্থা, বিয়ানীবাজারসহ উপজেলার শিক্ষা, সমাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

এর আগে নিহতদের স্মরণে ১ মিনিটের নিরবতা পালন করা হয়।

পুষ্পার্ঘ অর্পন শেষে বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ডের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিয়ানীবাজর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মজির উদ্দিন আনছার, তিলপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসলাম উদ্দিন, সভাপতি নুরুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন,  নানকার স্মৃতি রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কেতকী রঞ্জন দাস, শহীদ প্রসন্ন কুমার দাসের নাতি শিক্ষক বিপ্লব কুমার দাস, বিয়ানীবাজার জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আহমেদ ফয়সাল, সাধারণ সম্পাদক শাবুল আহমেদ, সাংবাদিক আতিকুল ইসলাম রুকন, আবু তাহের রাজু, সামিয়ান হাসান ,রুহেল আহমদ, আওয়ামীলীগ নেতা বিবেকানন্দ দাস প্রমূখ। সন্ধ্যায় দিবসটি উপলক্ষে বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ডের পরিবেশনায় বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজে মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘হদ বেগারী’।

প্রসঙ্গত,নানকার প্রথা এবং জমিদারী ব্যবস্থা বিলুপ্তির দাবীতে আন্দোলন, সংগ্রাম ভাল চোখে দেখেনি তৎকালীন পাকিস্থান সরকার। ১৯৪৯ সালে ইস্ট পাকিস্থান রেজিমেন্টের সিপাহীদের গুলিতে শহীদ হন এই প্রথার বিদ্রোহী ছয় কৃষক। কৃষকদের নানকার আন্দোলনে মূল ভূমিকা পালন করেন কমরেড অজয় ভট্টাচার্য্য। তখন বৃহত্তর সিলেটের ৩০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ১০ ভাগ মানুষ ছিলেন নানকার। বৃহত্তর সিলেট জেলায় চালু ছিল এ নানকার প্রথা। ১৯২২ সাল থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত কমিউনিষ্ট পার্টি ও কৃষক সমিতির সহযোগিতায় বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, বড়লেখা, কুলাউড়া, বালাগঞ্জ, ধর্মপাশা থানায় নানকার আন্দোলন গড়ে ওঠে। নানকার আন্দোলন ঠেকাতে জমিদারদের লাঠিয়াল বাহিনীর সাথে ইস্ট পাকিস্থান রেজিমেন্টের সিপাহীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে আন্দোলনকারীদের উপর। ইপিআরের গুলিতে ঘটনাস্থলে শহীদ হন কৃষক ব্রজনাথ দাস (৫০), কুটুমনি দাস (৪৭), প্রসন্ন কুমার দাস (৫০), পবিত্র কুমার দাস (৪৫) ও অমূল্য কুমার দাস (১৭) নামের ৫ জন কৃষক। একই স্থানে ৩ আগস্ট ১৯৪৯ সালে জমিদারের লাঠিয়ালদের হাতে শহীদ হন কৃষক রজনি দাস।