বিয়ানীবাজারের চারখাই পুলিশ ফাঁড়ি থেকে এসআই শফিউল ইসলাম পাঠোয়ারীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বৈঠক শেষে তাকে প্রত্যাহার করেন বিয়ানীবাজার থানা ওসি। তাকে বিয়ানীবাজার থানায় নিয়ে আসা হয়। গত বুধবার চারখাই ইউপি কমপ্লেক্সে ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে পুলিশ সদস্যরা অসদাচারণ করার কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জানা যায়, চারখাই পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে সব ক্ষেত্রে প্রভাব খাটান এসআই শফিউল। এমনকি তার অনুমতি না নিয়ে ইউপি কমপ্লেক্স এলাকায় চেয়ারম্যানও কোন কাজ করতে পারবেন না বলে জানান পুলিশ সদস্যরা। গতকাল বুধবার সকালে টিউবয়েল মেরামত করতে শ্রমিকরা কাজে আসলে অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ির সুবেদার ত্রিপুল চাকমা এসআই শফিউলের অনুমতি ছাড়া কাজ করতে দেয়া হবে না বলে জানান। এতে স্থানীয়দের অবরোধে পড়েন ইউপি কমপ্লেক্সে থাকা অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক পুলিশ পরিদর্শক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উপ্তত্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

রাতে উপজেলায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান আতাউর রহমানখান, নির্বাহী কর্মকর্তা মু: আসাদুজ্জামান, ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী, চারখাই ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ইব্রাহীম আলী, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

বিয়ানীবাজার থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ ফাঁড়িড়র দায়িত্বশীল এসআইদের দুই মাস পর পর বদলী করা হয়ে থাকে। এসআই শফিউলকে সেই নিয়মে প্রত্যাহার করা হয়। তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের সাথে পুলিশের ভুলবোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু: আসাদুজ্জামান বলেন, উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে উপজেলা চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকার মানুষদের শান্ত করি। রাতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির বৈঠকে এসআই শফিউলকে প্রত্যাহার করার পরামর্শ দেয়া হয়। শুনেছি থানার ওসি তাকে প্রত্যাহার করে সেখান থেকে বিয়ানীবাজার থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান বলেন, আলোচনা করেই উদ্ভুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। এলাকার মানুষ এসআই শফিউলের উপর বিক্ষুব্ধ ছিলেন। তাদের দাবি ছিলো তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করার। আমরা সিদ্ধান্ত দেয়ার আগেই দায়িত্বশীলরা তাকে প্রত্যাহার করে নেন।

উল্লেখ্য- চারখাই ইউনিয়ন পরিষদের টিউবয়েল মেরামত করতে বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী কয়েকজন শ্রমিক পাঠান। তারা পরিষদের টিউবয়েল কাজ করতে গেলে দায়িত্বরত কনস্টেবল বাধা দেন। বিষয়টি চেয়ারম্যান মাহমুদ আলীকে জানান শ্রমিকরা। তিনি পরিষদে এসে কি হয়েছে জানতে চাইলে দায়িত্বরত কনস্টেবল এসআই শফিউল পাঠোয়ারির নির্দেশে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে জানিয়ে চেয়ারম্যানকে বলেন, স্যারের অনুমতি ছাড়া এখানে কোন কাজ হবে না।

আমাদের চারখাই সংবাদদাতা শহিদুল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যানের সাথে পুলিশের অসদাচরণ ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা ইউনিয়ন পরিষদের জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করছেন। কোন অবস্থায় জনস্রোততে শান্ত করতে পারছেন না স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ বিষয়টির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু: আসাদুজ্জামান সুষ্ঠুভাবে সমাধান করে দেয়ার আশ্বাস দেয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত রয়েছে। স্থানীয়রা কি সমাধান হয় এ বিষয়টি জানার জন্য এখনো ইউপি পরিষদ প্রাঙ্গনে অবস্থান করছেন।