সম্প্রতি বিয়ানীবাজার পৌরশহর ও গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে রঙিন মুরগির বাচ্চা। গ্রামের পাড়া-মহল্লার বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাদুস-নুদুস ছোট ছোট গোলাপি, লাল, নীল ও সবুজ বাহারি রঙের এ মুরগির বাচ্চাগুলো বিক্রি করছেন কিছু বিক্রেতা। দেখেই পছন্দ করে ঝটপট কিনেও নিচ্ছেন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পোলট্রি মুরগির বাচ্চা বিভিন্ন রঙ করে বিদেশী উন্নত জাতের বাচ্চা বলে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে অর্থ। পছন্দ হওয়ায় বেশি দামে কিনে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। সাধারণ মুরগির বাচ্চা বিভিন্ন রঙ করে বিক্রি করা প্রতারণার শামিল বলে মনে করছেন স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিস।

তিলপাড়ার হেলাল উদ্দিন নামের এক ভুক্তভোগী জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগে বিভিন্ন রঙের মুরগির বাচ্চা নিয়ে একজন বিক্রেতা আমার বাড়ি আসে। বাচ্চাগুলো দেখতে অনেক সুন্দর হওয়ায় এক ডজন কিনে নেয় আমার স্ত্রী। কিন্তু ১০/১২ দিন যেতে না যেতেই বাচ্চাগুলো শরীরে সাদা রঙ্গ ফুটে উঠছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ছোট ছোট লাল, নীল ও সবুজের বাহারি রঙের এ মুরগির বাচ্চা আসলে মুরগির নতুন কোনো জাত নয়। সাধারণ লেয়ার জাতেরই মুরগি। বিশেষ কায়দায় রঙ করা হয়েছে। দেখে আকর্ষণীয় মনে হওয়ায় কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে শিশুদের জন্য কিনেছেন তারা। তবে উপজেলার কোথাও এভাবে মুরগির বাচ্চা রঙ করার খবর পাওয়া যায়নি। মূলত অন্য কোনো এলাকায় সাধারণ লেয়ার জাতের সাদা মুরগির বাচ্চা বিভিন্ন রঙ করে এ উপজেলায় এনে বিক্রি করা হচ্ছে। এ রঙ সর্বোচ্চ এক মাস থাকে।

সাধারণ মুরগির বাচ্চা প্রতিটি ২০ টাকা শুরু করে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও রঙ করা মুরগির বাচ্চা ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানুষ আকৃষ্ট হয়ে বেশি দামে এ পোলট্রি মুরগির বাচ্চা কিনে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

জকিগঞ্জের শাহগলি এলাকা থেকে আসা জমির উদ্দিন জানান, তিনি প্রায় দুই-আড়াই মাস ধরে রঙিন মুরগির বাচ্চা বিক্রি করছেন। সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে এসব বাচ্চা পাওয়া যায়। বাচ্চাগুলো সিলেট থেকে কিনে জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে থাকেন। বাহারি রঙের মুরগির বাচ্চাগুলো খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শৌখিন ব্যক্তি ও শিশুরা খুব পছন্দ করে। বিক্রি করতে বেগ পেতে হয় না। গড়ে প্রতিদিন ৩০০-৩৫০ বাচ্চা বিক্রি হয়।

তিনি আরো জানান, সাধারণ লেয়ার জাতের সাদা মুরগির বাচ্চায় বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাত ধরনের রঙ করা হয়। তবে গোলাপি, লাল, সবুজ ও নীল রঙের বাচ্চার চাহিদা বেশি।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারের মুক্তিযোদ্ধাদের গ্রামে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া