বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের হাতে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে পৌরসভার খাসা নয়াবাজার এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র ও ডাকাতির সরঞ্জামাদিসহ গ্রেপ্তার হয় তিন ডাকাত। এর মধ্যে একজন ডাকাত হচ্ছে উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের বাঙ্গালহুদা গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে হোসেন আহমদ (৩০)। সে পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক। সে স্থানীয় ৭০৭ শাখার একজন সদস্য। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের ছেলে হোসেন আহমদ বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। তার মা দুবাগ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষা করেন।

এলাকায় হোসেন একজন শান্তশিষ্ট ও ভদ্র সিএনজি চালক হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। ভাড়া নিয়ে প্যাসেঞ্জারদের সাথে বাকবিতণ্ডা না করায় অনেকেই তার গাড়ি ভাড়া নিতেন। কিন্তু গত মাস চারেক থেকে হোসেনের আচরণ পাল্টে গেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সুত্র জানায়, হোসেন প্রায়ই এলাকা থেকে নিরুদ্দেশ হতো। কখনো ৩/৪ দিন, কখনো বা আবার সপ্তাহ পর্যন্ত তার কোন খোঁজ মিলতোনা। ধারণা করা হচ্ছে, সে ডাকাতি করতেই এলাকার বাইরে অবস্থান করতো। ‘দিনে চালাতো সিএনজি, আর রাতে করতো ডাকাতি’- গ্রেপ্তারের পর এলাকায় তার এই বহুরূপী আচরণ নিয়ে সর্বত্র সমালচনার ঝড় বইছে।

তাঁর সাথে আটক অন্য দুই ডাকাতরা হচ্ছে- বিয়ানীবাজার পৌরসভার পশ্চিম নয়াগ্রামের মালু হোসেনের ছেলে সাইদুল ইসলাম ওরফে সাইরুল (৩২) এবং  কমলগঞ্জ উপজেলার কাটাবিল গ্রামের প্রয়াত মদরিছ মিয়ার ছেলে ইসলাম মিয়া (২৮)। এর মধ্যে সাইদুল ইসলাম ওরফে সাইরুলের মূল বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়, সে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ানীবাজার পৌর এলাকায় বসবাস করছে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতির কোন মামলা না থাকলেও তার বিরুদ্ধে আদালতে চুরির মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে, ডাকাত ইসলাম মিয়ার নামে বিভিন্ন আইনে ৭টি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে পুলিশের হাতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের কোনাগ্রামের একটি ইটভাটার আশেপাশে তারা একত্র জড়ো হওয়ার কথা ছিল বলে জানায় তারা। পরে সেখান থেকে মুড়িয়া ইউনিয়নের একাধিক স্থানে ডাকাতির অপারেশনের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু আগে থেকে ওত পেতে থাকা পুলিশ তাদের গাড়িকে পথরোধ করে দাঁড়ায়। এসময় প্রথম অটোরিকশাতে থাকা তিনজন আগ্নেয়াস্ত্র ও ডাকাতির সরঞ্জামাদিসহ আটক হলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর একটি অটোরিকশাতে থাকা আরও কয়েকজন ডাকাত পালিয়ে যায়।

এদিকে, ডাকাতদের গ্রেপ্তারের পর বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম। এসময় তিনি বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর রাতে সিলেট নগরী থেকে ডাকাত সর্দার শিপন হাজারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই জেলাজুড়ে ডাকাতদের তথ্য ও পরিকল্পনা আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। এরপর পুরো সিলেটজুড়েই তৎপরতা ও নজরাদারী বৃদ্ধি করি। বিয়ানীবাজারে বড় ধরনের ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র এমন সংবাদ পেয়ে আমরা তাদেরকে ধরার জন্যে পরিকল্পনা করি। একই সাথে প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের সর্বশেষ অবস্থান নজরে রেখেছিলাম। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, জকিগঞ্জ সার্কেল ও অফিসার ইনচার্জ হিল্লোল রায় এর নেতৃত্বে ডিবি দক্ষিণের পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ১০/১২ জন ডাকাত পালিয়ে গেলেও তিনজনকে আগ্নেয়াস্ত্র ও সরঞ্জামাদিসহ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।

এসময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে একটি নাম্বারবিহীন সিএনজি চালিত (অটোরিক্সা), একটি ৬ চেম্বার বিশিষ্ট ১টি বিদেশী রিভলবার, দুইটি ওয়ান শুটারগান, ১৪টি কার্তুজ, গ্রীল কাটার, ৩টি লােহার তৈরী কাঠের বাটযুক্ত দা, একটি শাবল, দুইটি তালা ভাঙ্গার শাবল, একটি স্লাই রেঞ্জ, ১টি প্লাস্টিকের ক্রু ড্রাইভারসহ বিভিন্ন সরঞ্জামসহ ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ডাকাতদের শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করতে কাজ করছে পুলিশ। তবে শীতকালে সিলেটের ডাকাতরা সক্রিয় হয়ে উঠে তবে তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে এবং সিলেট জেলার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের বিভিন্ন টিম মাঠে কাজ করছে।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আন্তঃজেলা ডাকাত দলের এই ৩ সদস্যকে বুুুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ সময় আদালতে আসামিদেের ৭ দিনের রিমাণ্ড চেয়েছে পুলিশ। এর আগে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতির প্রস্তুতি আইনে দুটি মামলা করেছে থানা পুলিশ।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

প্রথমবারের মতো বিয়ানীবাজারে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক 'ইনডোর ব্যাডমিন্টন স্টেডিয়াম'