নতুন সংস্কার করা বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কে মেরামত কাজ শেষ হবার এখনও ৫ মাসও পূর্ণ হয়নি। তার আগেই সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। সড়কটির মিনারাই অংশে সড়কের পাড় ধসে পড়েছে। এতে বেশ কিছু জায়গাজুড়ে বড় আকারে ফাটল ধরায় সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেকোন সময় ভারি যানবাহন সড়কের পিচ ঢালাইসহ ধেবে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, দীর্ঘ ভোগান্তির পর সংস্কার কাজ শেষ হওয়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরলেও সড়কের একাধিক স্থানে ধস নামা ও ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। তাদের অভিযোগ, ত্রুটিপূর্ণ সংস্কার কাজের জন্য রাস্তায় ধস নামার পাশাপাশি ফাটল দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কটির মাথিউরা মিনারাই অংশের সড়কের এক পাশের পাড়ের মাটি ধসে নিচের খালে পতিত হয়েছে। এতে সড়কের মূল পিচ ঢালাই অংশের নিচের মাটিও সরে গিয়ে সড়কটি যান চলাচলের ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একইসাথে সড়কের বেশকিছু অংশজুড়ে বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।

ওইদিন সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত সেই স্থানটিতে গিয়ে দেখা, বাঁশের বেড়া দিয়ে পুনরায় সংস্কার করার কাজ করছেন ৪জন শ্রমিক। আলাপকালে তাদের একজন শ্রমিক জানান, উপজেলা প্রকৌশলের নিয়োজিত ঠিকাদার তাদের এখানে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। বাঁশের বেড়া দিয়ে পরে মাটি ভরাট করে রাস্তাটি আপাতত সংস্কার করার দায়িত্ব আমাদের উপর।

খোঁজ নিয়ে গেছে, বিয়ানীবাজারসহ তিন উপজেলার মানুষের বিভাগীয় শহর সিলেটের সঙ্গে বিকল্প সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির মাথিউরা মিনারাই অংশ ছাড়াও সম্প্রতি কিছুদিন পূর্বে কদুগঞ্জ সেতুর সংযোগ সড়ক ও মাথিউরা বাজার অংশে ধস নামে। পরে উপজেলা প্রকৌশল অফিস সড়কেএ নিয়োজিত ঠিকারদারকে পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থান সংস্কার করার নির্দেশ দেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সেসব স্থান পুনরায় সংস্কার করা হলেও স্থানীয়রা কাজের মান নিয়েও ফের সন্দেহ প্রকাশ করেন।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে সোয়া ৪ কোটি টাকায় বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়কের প্রথম চার কিলোমিটারের বেশি অংশ সংস্কারের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশল বিভাগ মেসার্স রাশিদুজ্জামান পিটার নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করে। ওই বছরের অক্টোবরে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হয়। সড়কের এক কিলোমিটার অংশের মেকাডম শেষ করতে সময় লেগেছে ছয় মাস। গত বছরের মার্চে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় সংস্কার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সংস্কার কাজের মেয়াদ বৃদ্ধির পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এসে রাস্তাটির সংস্কার কাজ শেষ হয়।

ছাদিকুর রহমান এক পথচারী জানান, ধস নামার পর সড়লের নিচের মাটি সরে গেছে। এখন বড় ট্রাক, মাইক্রোবাস ও এম্বুলেন্স চলাচল করে যেকোন সময় সড়কের মাটিসহ ধসে পাশের খালে পড়ে যাবে। সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ভালোভাবে সংস্কার করে দেয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

আবিদুল ইসলাম নামের এক মোটরসাইকেল চালক জানান, দীর্ঘ ভোগান্তিতে থাকার পর এই সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৌশল অফিসের উদাসীনতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের কারণে বার বার আমাদেরকেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সড়কটির মিনারাই অংশের সড়কে ধস নামার বিষয়টি জানেন বলে জানিয়েছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রকৌশল অফিসের প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান। তিনি বলেন, ধসে যাওয়া ও ফাটল সৃষ্টি হওয়া স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সড়কটিতে বার বার কেন ধস ও ফাটল দেখা দিচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাশের খালে প্রবল স্রোত থাকায় সড়কের পাড় ভেঙ্গে গেছে। সংস্কার কাজে কোন ত্রুটি ছিল না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মিনারাই ও কদুগঞ্জ সেতুর সংযোগ সড়কে ধস নামা স্রেফ দুর্ঘটনা।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারের সূর্য সন্তান শহীদ ফখরুল দৌলা মনু মিয়াকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ