বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭।

বড়লেখা উপজেলার নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়ন থেকে মুন্না আহমেদ নান্নু (২২) নামে একজনকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের মাইজগ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে ও বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের বিএ দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র। শনিবার দিবাগত রাত সোয়া দুইটায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার বিকেলে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রওশনুজ্জামান সিদ্দিকী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, পুলিশের প্রধান কার্যালয়ের সহযোগিতায় মুন্না আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০১৬ সালের শেষের দিকে ফেসবুকের মাধ্যমে কিছু বন্ধুর সাথে মুন্না আহমদের পরিচয় হয়। তারা সবাই মিলে ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করে। তারা সবাই মিথ্যা পরিচয়ের (ফেক আইডি) মাধ্যমে ফেসবুক চালাতো।

বিভিন্ন গণপরীক্ষা যেমন এসএসসি, দাখিল, ডিগ্রি ইত্যাদি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফেসবুকে তাদের তৈরি গ্রুপের মাধ্যমে ফাঁস করে পরীক্ষার্থীর নিকট থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করতো। সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার কয়েকটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে তারা জড়িত ছিল। মুন্না আহমদের ফেসবুক আইডি হচ্ছে শেখ আব্দুল আলম নামে। মুন্না আহমেদের সাথে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের অনেকেই জড়িত। তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বড়লেখা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম ও খন্দকার আশফাকুজ্জামান এবং ডিআইও-ওয়ান মো. মারুফ হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে মুন্না আহমেদকে উপস্থিত করা হলে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি (মুন্না আহমদ) জানান, তার ফ্রেন্ডলিস্টের একজন বন্ধু তাকে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত করে। সেই বন্ধুর সাথে তার কখনো দেখা হয়নি। তাদের ১৭ জনের একটি গ্রুপ আছে। কেউ কাউকে চিনে না। টাকা বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন করে।

তারা সাধারণত আগের রাতে অথবা পরীক্ষার এক ঘন্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন। পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে পেয়েছেন। অনেকে টাকা দেয়ও না। এ বছর ঢাকা বোর্ডের প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত ছিলেন। ১৮ জনের মতো পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা পেয়েছেন তিনি।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রওশনুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, ‘সে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এটি জাতীয় বিষয়। তাই তদন্তের স্বার্থে অনেককিছু বলা যাচ্ছে না।’