বিশেষ প্রতিনিধি। ১৭ মার্চ ২০১৭।

ক্ষণ গুণলে দুই বছর এক মাস যোলদিন। এই সময়ের মধ্যে পুলিশ নিজু হত্যা মামলার প্রধান আসামী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক জামাল হোসেনকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে নেতাকর্মীদের সাথে ঘরোয়া বৈঠক, বাড়িতে অবস্থান, রাতের বেলা পৌরশহরের দক্ষিণবাজারের জনতা মার্কেটে পদচারণা সবই ছিল। র‌্যাব-০৯ সিলেট আদালত সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে বিকাল ৪টার দিকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে।

নিজু হত্যাকান্ড ঘটে ২০১৫ সালের ৩০ জানুয়ারি রাত দশটায় বিয়ানীবাজার পৌরশহরের দক্ষিণবাজারে। দক্ষিণবাজারে অটোরিক্সা (সিএনজি) স্ট্যান্ডের আধিপত্য নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক জামাল হোসেনের সাথে শাবুল আহমদ গংদের বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিকাল থেকে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা চুড়ান্ত রূপ পায় রাত ১০টার দিকে।

ঘটনাস্থলে গুলি বর্ষণ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একজন নিহত এবং আরও ৭জন আহত হন। এ ঘটনায় সবজি ব্যবসায়ী কমবা গ্রামের নিজু গুলিবিদ্ধ ঘটনাস্থলে মারা যায়। পুলিশ তার দেহ উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক নিজুকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পরদিন ৩১ জানুয়ারি আহত ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা শাবুল আহমদ বিয়ানীবাজার থানায় জামাল হোসেনকে প্রধান আসামী করে ছাত্রলীগের আরও ১৯ নেতার নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। এ মামলা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অজ্ঞাতনামা আসাামী করা হয়। পুলিশ জামালের চাচাতো ভাইসহ ঘটনার পরদিন দুইজনকে আটক করে। নিজুর পরিবারও হত্যা মামলার অভিযোগ দায়ের করে।

হত্যাকান্ড ঘটার দুই বছর এক মাস ষোলদিন সিলেটে র‌্যাব-০৯ জামাল হোসেনকে আটক করেছে। আটকের পর ফেসবুকসহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়। জামালের নিঃশর্ত মুক্তি কামনা করেন একটি পক্ষ। কিন্তু সাধারণ মানুষ অপর পক্ষসহ বিভিন্ন সংঘঠনের সাথে যুক্ত লোকজন ঘটনার দিনের আহত ও নিহতের ছবি আপলোড করেন। এ ছবি নিচে বিভিন্ন ‘ক্যাপশন’ লেখা তাকে। তেমনি একটি ‘ক্যাপশন’ ছিল- পুলিশ যা পারেনি র‌্যাব-০৯ তা পেরেছে।