পাসর্পোট তৈরীতে জালিয়ালির অভিযোগে দুদকের দায়ের করার মামলায় অভিযুক্ত ৭১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট তৈরী করছে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। অভিযুক্ত ৭১ জনের মধ্যে বিয়ানীবাজারের ৫জন এবং গোলাপগঞ্জের ৪জন রয়েছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে সিলেটের রয়েছেন আরও ৯জন।

জালিয়াতির মাধ্যমে ৬৫ ব্যক্তিকে অফিসিয়াল পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগে দুই পরিচালকসহ পাসপোর্ট অধিদফতরের ৭১ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরির অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার কমিশন থেকে ২০১৬ সালে দায়ের করা মামলাটির চার্জশিট আদালতে দাখিলের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মামলাটি তদন্ত করেন দুদকের সহকারী পরিচালক শফি উল্লাহ।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আগারগাঁও বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের দুই পরিচালক মুনসী মুয়ীদ ইকরাম ও এস এম নজরুল ইসলাম ( প্রশাসন) এবং ওই কার্যালয়ের আরও কিছু কর্মকর্তা ও সুবিধাভোগীসহ মোট ৭১ জন যোগসাজস করে ৬৫ ব্যক্তিকে সাধারণ পাসপোর্টের বদলে সরকারি কর্মকর্তা দেখিয়ে অফিসিয়াল পাসপোর্ট ইস্যু করে।
এ কাজটি করতে ওই ৬৫ ব্যক্তিকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হিসেবে দেখিয়ে নাম ও পদবি ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে জাল অনাপত্তিপত্র (এনওসি) তৈরি করে সাধারণ পাসপোর্টকে অফিসিয়াল পাসপোর্টে রূপান্তর করে দেয় তারা। দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, জালিয়াতির এ ঘটনা তারা ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের মে মাস পর্যন্ত সময়ে ঘটিয়েছে।

দুদক আরও জানায়, এই পাসপোর্ট ব্যবহার করে কিছু সংখ্যক পাসপোর্টধারী অবৈধভাবে বিভিন্ন দেশে যাতায়াত ও বসবাস করছেন। মিথ্যা তথ্য ও জাল অনাপত্তি সনদের ভিত্তিতে বেশকিছু সাধারণ নাগরিক সাধারণ পাসপোর্টকে অফিসিয়াল পাসপোর্টে রূপান্তর করে এবং তা ব্যবহার করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গমন করেন। এ রকম ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহারকারী ৪ জন বাংলাদেশি ব্যক্তিকে তুরস্ক পুলিশ গ্রেফতার করলে জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে। পরবর্তীতে তাদের তুরস্ক সরকার বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, এ বিষয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ১৮ জন পাসপোর্টধারী ও পাসপোর্ট অফিসের ৩ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে দুদকের উপপরিচালক মো. বেনজির আহমেদ শেরে বাংলা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে দুদকরে সহকারী পরিচালক মো. শফি উল্লাহ ৭১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সুপারিশ করে কমিশনের প্রতিবেদন দাখিল করেন। কমিশন বৃহস্পতিবার আদালতের দাখিলের জন্য চার্জশিটটি অনুমোদন দিয়েছে।

চার্জশিটভুক্ত ৭১ আসামিরা হলেন আগারগাঁও বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের পরিচালক (বরখাস্ত) মুনসী মুয়ীদ ইকরাম, সাবেক উচ্চমান সহাকারী মো. শাহজাহান মিয়া, মো. সাইফুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক (প্রশাসন) এস এম নজরুল ইসলাম, সাবেক সহকারী পরিচালক এস, এম, শাহ্জামান, উম্মে কুলসুম, নাসরিন পারভীন নুপুর, সাবেক উচ্চমান সহকারী মো. আনোয়ারুল হক, ফেনীর দাগনভূঁইয়ার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, নওগাঁর আত্রাইয়ের সাইদুর রহমান, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার মোহাম্মদ রেজাউল করিম, ঢাকা নবাবগঞ্জের সোহেল রানা, ফরিদপুরের শহিদ শেখ, ফেনীর আনোয়ার হোসেন, সিলেটের বিয়ানীবাজারের আমিন উদ্দিন, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, মুন্সীগঞ্জ লৌহজংয়ের মোহাম্মদ আরিফ হাসান, মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগরের মোহাম্মদ দিপু, সিলেট গোপালগঞ্জের দেলোয়ার হোসেন, মুন্সীগঞ্জ টংগীবাড়ির মো. ফরহাদ খান, কুমিল্লা লাঙ্গলকোটের কাজী মো. আল আমিন, কুমিল্লা হোমনার এস এম হিমেল, সুনামগঞ্জ ছাতকের হাবিবুর রহমান, নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জের মো. হানিফ শিবলু, ফরিদপুর মধুখালীর মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের সহিদ কামাল, মুন্সীগঞ্জ সদরের ইমরান হোসেন, কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সেন্টু চন্দ্র বিশ্বাস, মো. জসিম উদ্দিন, সিলেট বিয়ানীবাজারের এম এন সাওন সাদেক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের মোহাম্মদ আরিফ খলিফা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফারুখ আহমেদ, টাঙ্গাইলের আব্দুল বারেক, নোয়াখালী সোনাইমুড়ির ইয়াসিন আরাফাত, নওয়াবগঞ্জের তুষার খান, পাবনা সাঁথিয়ার মোহাম্মদ শামীম হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবলী আহম্মেদ, টাঙ্গাইল মির্জাপুরের মনির খান, সাভারের মোহাম্মদ শাহ জালাল, হবিগঞ্জ বানিয়াচংয়ের মোহাম্মদ মামুন, মুন্সীগঞ্জ সদরের মিলন বেপারী, সিলেট গোপালগঞ্জের শাহজাহান আহমেদ, দক্ষিণ কুমিল্লার জামাল উদ্দিন, নোয়াখালী সোনাইমুড়ির সামছুদ্দিন, নওগাঁ সদরের মো. জালাল মোল্লা, সিলেট গোপালগঞ্জের মুজিবুর রহমান, বরিশাল উজিরপুরের মো. আমির হোসেন শরিফ, কুমিল্লা মনোহরগঞ্জের মোহাম্মদ বাবর উদ্দিন, চট্টগ্রাম মিরসরাইয়ের মোহাম্মদ কামরুল হাসান, লক্ষ্মীপুর রামগঞ্জের রাশেদ খান, সিলেট বিয়ানী বাজারেরর মোহাম্মদ ফয়েজ আহম্মেদ, যশোর কোতোয়ালির মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, কুমিল্লা লাঙ্গলকোটের মো. জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, কেরানীগঞ্জের মো. বিল্লাল মিয়া, কুমিল্লা লাকসামের মাহফুজুর রহমান সবুজ, কুমিল্লা দাউদকান্দির মিজানুর রহমান সিলেট কানাইঘাটের আফজল চৌধুরী, মাগুরা শালিখার ইসমাইল হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের আলাউদ্দিন মিয়া, সিলেট গোপালগঞ্জের কায়েস আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরের রানা আব্দুল মান্নান, সিলেট গোপালগঞ্জের জুয়েল আহমেদ, সিলেট কানাইঘাটের মামুন রশিদ, সিলেট গোপালগঞ্জের মোহাম্মদ মান্নান, সিলেট বিয়ানীবাজারের মোহাম্মদ শফিকুল আলম মান্না, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মো. ইব্রাহিম খলিল, সিলেটের মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, কুমিল্লা সদর দক্ষিণের শহিদুল ইসলাম মজুমদার, মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগরের রাকিব মিয়া ও কুমিল্লা মুরাদনগরের মোহাম্মদ ইসমাইল সরকার।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরও জানান, জালিয়াতির বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এজাহারনামীয় ও তদন্তে আগত সর্বমোট ৭১ জন আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৭১/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় চার্জশিট দাখিলের সুপারিশ করা হয়েছে।