একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ইতালির রাজধানী রোমে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ দূতাবাসে পাসপোর্ট দালালি করে যাচ্ছে। আর এসব দালালদের সহযোগিতা করায় ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদারকে তার মেয়াদপূর্তির আগেই প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে ইতালিতে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতার ঘোষণা দেয় ইতালি সরকার। এতে সুযোগ সৃষ্টি হয় অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদেরও কিন্তু পাসপোর্ট বা সার্টিফিকেট ছাড়া বৈধতার জন্য আবেদন করতে পারছেন না তারা। এই অবস্থায় বাংলাদেশ সমিতিরসহ কমিউনিটির নেতারা রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠক করে অ্যাপয়ন্টমেন্ট ছাড়া সনদ দেবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু দালালচক্রের স্বার্থ রক্ষায় পাঁচ দিনের মাথায় ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে রাষ্ট্রদূত। বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তারা দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং অবিলম্বে দালালি বন্ধ, রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে তার দুর্নীতির তদন্ত করার দাবি জানায়। প্রবাসীরা প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানায় এবং প্রবাসীদের বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। জানা গেছে, আবেদনের প্রেক্ষিতে মেয়াদ পূর্তির আগেই আবদুস সোবহান সিকদারকে প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার অবসর গ্রহণের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে ইতালিতে আসেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তদবির করে আরো দুই বছর বাড়িয়ে নেন তিনি। তার মেয়াদ শেষ হবে আগস্ট মাসে। কিন্তু তার আগেই দুর্নীতি আর দালালদের সহযোগিতার অভিযোগ নিয়ে আব্দুস সোবহান শিকদারকে ফিরে যেতে হচ্ছে বলে ধারণা ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশীদের।

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রদূতের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তারাও শুনেছেন। তবে এ ব্যাপারে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অভিযোগ রয়েছে, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে একজন নেতার নেতৃত্বে এই দালাল চক্র গড়ে ওঠে। দূতাবাসে ওই নেতার দুই নিকটাত্মীয়কে তদবিরের মাধ্যমে চাকরি দেয়া হয়েছে। ফলে দূতাবাস এখন দালালচক্রের তীর্থ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, ইতিমধ্যেই ইতালিতে নতুন রাষ্ট্রদূত কে আসবে সেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই জানা যাবে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশীদের বসবাস ইতালিতে কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রদূত।

এবিটিভির সর্বশেষ প্রতিবেদন-

বিয়ানীবাজারে ইউএনও পুত্রসহ ৬জন করোনা রোগী শনাক্ত