সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) শিঘ্রই নতুন ভবনে পদার্পন করছে। গত পাঁচ বছর অস্থায়ী ভবনে কার্যক্রমে শেষে অবশেষে স্থায়ী ভবনে ফিরছে সিসিক। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন এ ভবনের সিসিকের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিই চলছে। অস্থায়ী নগরভবন থেকে স্থায়ী ভবনে স্থানান্তর করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের মালামাল। এছাড়া ভবনটি উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সময় চেয়ে পাঠানো হয়েছে আবেদনপত্র।

সিসিক সূত্র জানায়, কয়েক দশক ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছিল সিলেট পৌরসভা এবং পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর সিলেট সিটি করপোরেশনের জন্য নতুন নগরভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ঢাকার ‘স্থপতি সংসদ’ নামক স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ১২ তলা ভবনটির নকশা করে। ভবনটির নির্মাণ কাজ পায় সালাম ব্রাদার্স ও মাহবুব ব্রাদার্স নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২৪ মার্চ নতুন ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। ওই সময় নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। তবে ধাপে ধাপে সে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকায়।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘সময়ের সাথে সাথে ব্যয় বেড়েছে। ২৫ কোটি টাকায় ১২ তলা ভবনের পাঁচতলা পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি সাততলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে আরো ৩৫ কোটি টাকা লাগতে পারে।’

জানা যায়, বন্দরবাজারে নতুন নগরভবন নির্মাণ কাজ চলায় সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম তোপখানাস্থ পীর হবিবুর রহমান পাঠাগারের ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেখানেই চলছিল সিসিকের কার্যক্রম। বর্তমানে নতুন নগরভবনের ১২ তলার মধ্যে পাঁচতলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় এখানেই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে নগরভবনের যাবতীয় কার্যক্রম। ভবনটি ১২ তলা পর্যন্ত নির্মাণ হওয়ার কথা থাকলেও অর্থসংকটে পাঁচ তলা পর্যন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ। অর্থ বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, ‘বরাদ্দকৃত অর্থে নগরভবনের পাঁচতলা পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি সাত তলা নির্মাণকাজ শেষ করতে অর্থের প্রয়োজন। এজন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’

সিসিক সূত্র জানায়, নির্মিত নতুন ভবনটি ভূমিকম্প সহনীয় করে নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিকতার মিশেলেই ভবনটি নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার ভবনে থাকা অস্থায়ী নগরভবন থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এ কাজে আরো দুই-তিন সপ্তাহ লাগতে পারে। এদিকে, ভবনটি উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সময় চেয়ে আবেদনপত্র পাঠানো হয়েছে। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকার জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশারর হোসেনের কাছেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করতে রাজি হলে তাঁর দেওয়া সময়ানুযায়ীই নতুন নগরভবন উদ্বোধন করা হবে। অন্যথায় অর্থমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীকে দিয়েই ভবনটির উদ্বোধন করানো হবে।

এ ব্যাপারে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘নগরভবনের ১২ তলা ভবন নির্মাণ হওয়ার কথা। বর্তমানে পাঁচ তলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৭ তলা নির্মাণে অর্থের প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অস্থায়ী ঠিকানায় নগরভবনের কার্যক্রম স্থায়ী ভবনে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। মালামাল নতুন ভবনে আনা হচ্ছে। এতে আরো দুই-তিন সপ্তাহ সময় লাগবে।’

উৎস- সিলেট ভিউ