কি দিন কি রাত বিয়ানীবাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহ চলছে নৈরাজ্য। গত দুই সপ্তাহ থেকে অতিমাত্রায় লোডশেডিংয়ে উপজেলাবাসীর জীবনমান চরম আকার ধারণ করেছে। ভুক্তভোগী আম জনতা বিদ্যুতের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন। চলছে সড়ক অবরোধ। আজ সন্ধ্যার পূর্বে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলেও উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষ পৃথকভাবে প্রতিবাদ সমাবেশ, সড়ক অবরোধ করবেন বলে জানিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার চারখাই বাজারে নাহিদ চত্বর এলাকায় স্থানীয় জনতা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। ঘন্টাব্যাপী এ অবরোধের কারণে সিলেট-বিয়ানীবাজার ও সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।

বিয়ানীবাজারে সুনাম সবস্টেশন গোলাপগঞ্জ, সুপাতলা ও শেওলা সাবস্টেশ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সুনামপুর সাব স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০ পর্যন্ত এ সাড়ে চার ঘন্টায় মাত্র ৩৫ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। ওই সময়ে বিদ্যুৎ একাধিকবার আসা যাওয়া করে।
মাথিউরা মিনারাই গ্রামের আমান উদ্দিন বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০ টার মধ্যে ৭বার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করে। ওই সময় এক মিনিটও বিদ্যুৎ স্থায়ী থাকেনি। এ অবস্থা চলতে থাকলেও আজ আমরা বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর সড়ক অবরোধ করবো। সড়কে প্রতিবাদ সমাবেশ করবো।

মাথিউরা নালবহর এলাকার মোহাম্মদ হানিফ বলেন, আজকের মধ্যে বিদ্যুতের সমস্যা সমাধান করতে হবে। নইলে এলাকার মানুষ অধৈর্য্য হয়ে উঠবেন। জনতার প্রতিবাদ কেউ ঠেকাতে পারবে না। তিলপারা এলাকার কামরুল বলেন, অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছি। আ তারাবিহ নামাজ শেষে এলাকার মানুষ রাস্তা নেমে যেতে পারে। পল্লীবিদ্যুতের উচিত হবে মানুষ রাস্তায় নামার আগে সমস্যার সমাধান করা।

বিয়ানীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ ডিজিএম অভিলাস চন্দ্র বলেন, আমরা চেষ্টা করছি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে। কিন্তু জাতীয় গ্রীড থেকে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে বিয়ানীবাজারে ১৫/১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রীড থেকে ৮/১০ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হচ্ছে। পল্লীবিদ্যুৎ ডিজিএম বলেন, আজকালকের মধ্যে আমাদের চেষ্টা থাকবে লোডশেডিং সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসা।