জীবন : ভাল-মন্দ,পাপ-পূণ্য,আলো-আঁধার, সুখ-দুঃখ, বিশ্বাস –অবিশ্বাসসহ সবকিছুর সংমিশ্রনে আমাদের জীবন। একটি বিষয় নিয়ে জীবন নয়। জীবনের পাঠশালায় যুক্ত হয় হাজারটি বিষয়।

নাটক : চরিত্র,সংলাপ,অভিনয়,দৃশ্যসজ্জা,আলোকসজ্জা, রূপসজ্জা, দর্শকসহ সবকিছু মিলিয়েই নাটক। অর্থাৎ, অনেকগুলো বিষয়ের যুক্ত ফলাফল হলো একটি নাটক। নাটকের কেন্দ্রবিন্দুতে কী আছে? নাটকের প্রাণভোমরা কী? নাটকের কেন্দ্রবিন্দু হলো দ্বন্দ্ব। বিরোধই নাটকের প্রাণশক্তি। দু’টি বিরোধী শক্তি পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে। তাদের মধ্যে চলছে গভীর দ্বন্দ্ব। জয় পরাজয়ের খেলায় মেতে উঠেছে দু’টি দল। ওই বিরোধটুকুকে ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হচ্ছে সংলাপ, অভিনয়, দৃশ্য, আলো ইত্যাদি। কিন্তু, মূল হচ্ছে দ্বন্দ্ব।

‘জীবন-ই নাটক, নাটক-ই জীবন!’ একটু গভীরভাবে চিন্তা করুন। আকাশ যেমন ক্রম পরিবর্তনশীল। মুহূর্তের মাঝে তার রূপ ও রং বদলায়। ঠিক তেমনি জীবনও মুহূর্তে মুহূর্তে বদলায়। একই গতিতে,একই ভাবে জীবন চলে না। উত্থান-পতন জীবনের অংশ। তাই দেখা যায়, এক জীবন সমাপ্ত করতে করতে ঘটে যায় হাজার ঘটনা। জীবনের এই ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোই ফুঠে উঠে নাটকে। নাটক আমাদের হাসায়,আবার কাঁদায়। কোনো কোনো সংলাপ,দৃশ্য কিংবা চরিত্র দেখে এতটাই অবাক হই, মনে হয় এ ত আমি! এই সংলাপগুলো ত আমার। এ ঘটনা ত আমার সাথে ঘটেছে। নাটক শেষ হবার পরও নাটকের রেশ ঠিকই মাথায় থেকে যায়। নাটকের সার্থকতা এখানেই। জীবনের দর্পনরূপে যখন উপস্থিত হয়। তখন সেই সত্য উচ্চারিত হয়,‘জীবন-ই নাটক,নাটক-ই জীবন’।

জীবনের পথচলায় ভালো ও মন্দ দুটো জিনিসই দেখতে পাই। প্রতিনিয়ত এদের মুখোমুখি হয়ে পথ চলতে হয়। সৃষ্টির শুরু থেকেই ভালো-মন্দ,সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্ব চলে আসছে। আবার জীবনের পদে পদে এগুলো নিয়ে আছে বিরোধ, দ্বন্দ্ব। ভালো আর মন্দ কখনই একাকার হয় নি। তাদের মধ্যে বিরোধ ছিলো, আছে এবং থাকবে। ঐ বিরোধটুকু ফুটে উঠে নাটকের মাধ্যমে। এজন্য নাটক হয়ে উঠে জীবনের অংশ।

নাটক থেকে প্রাপ্তি: একটি নাটক দেখে আমরা একসাথে দুটো জিনিস পাই। প্রথমত নাটকটি দেখে আমরা যেমন অপার আনন্দ লাভ করি। ঠিক তেমনি নাটক থেকে জীবনমুখী শিক্ষা লাভ করি। অর্থাৎ, আনন্দ এবং শিক্ষা এ দু’টো জিনিস নাটক থেকে পাই।
মানবিক সমাজ গঠনে নাট্যচর্চার প্রয়োজনীয়তা: নাটকের মাধ্যমে নিজেকে জানার, সমাজকে জানার ইচ্ছাশক্তির বিকাশ ঘটে। ভালো মন্দের পার্থক্য ও সহজে নিরূপণ করা যায়। নাটক থেকে মন্দকে বর্জন ও ভালোকে গ্রহণ করার শিক্ষা লাভ করি। অনেক প্রাচীন ইতিহাস, ঐতিহ্যে, মহাত্মা ব্যক্তির জীবনী ও জানা যায়। কেননা,নাট্যচর্চায় যুক্ত থাকতে হলে যে বিষয়ে নাটক করা হবে সে সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। প্রয়োজনে গবেষণাও করতে হবে। ফলশ্রুতিতে মানবিক বোধের উন্মেষ ও জ্ঞানের বিস্তৃতি ঘটে। নাটক আমাদের প্রাণবিক করে তুলে। আমাদের শুদ্ধ জীবন যাপনে উৎসাহিত করে। জ্ঞানের শিখা অন্তরে জ্বালিয়ে মানুষ হবার পথ সুগম করে। আর এভাবেই নাটক ও আদর্শ মানুষ একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠে। নাটক হয়ে উঠে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আদর্শ মানুষ ব্যতীত আদর্শ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। এজন্যই,নাটকের গুরুত্ব ও প্রয়োজন অপরিসীম।

লেখক- শিক্ষক ও নাট্যকর্মী।