অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে দলিল প্রতি দশ হাজার টাকা ঘুষ দেয়া বাধ্যতামুলক করেছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সাব রেজিস্টার লোকমান হোসেন। তিনি অফিসে আসে ব্যক্তিগত দেহরক্ষী সাথে নিয়ে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্দিষ্ট অংকের ঘুষ না দিলে তিনি দলিল রেজিস্ট্রী করেন না। ফলে ভূমির ক্রেতা-বিক্রেতারা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

সাব রেজিস্টার লোকমান হোসেনের অনিয়ম-দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানাতে গত রবিবার থেকে কর্মবিরতী পালন করছেন শতাধিক দলিল লেখকরা। সাব রেজিস্টার লোকমান হোসেন ৮ দফা দাবি মেনে নিলে তারা কাজে ফিরবেন বলে জানান।

সরেজমিনে সাব রেজিস্টার গিয়ে দেখা যায়, অফিস প্রাঙ্গন ও দলিল লেখকদের শেডে কর্মবিরতী পালন করছেন দলিল লেখকরা। রবিবার ও সোমবার একটি দলিলও রেজিস্ট্রি করা হয়নি। অফিসের কম্পিউটার কক্ষে কর্মরত মহিলাদের কাছের একটি ডেস্কে একজন যুবক বসা দেখে তার নাম জিজ্ঞেস করতে তিনি দ্রুত পেছন দিয়ে পালিয়ে যান। কম্পিউটার অপারেটররা জানান, তার নাম দিনার আহমদ। তিনি ‘সাব’র দেহরক্ষী।

সাব রেজিস্টার লোকমান হোসেনের কার্যালয়ের মূল ফটক তালা দেয়া। অফিসের খাস কামরার দিক দিয়ে অপর একটি দরজা থাকায় সেটি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তাকে পাওয়া যায়নি। পিয়ন ইমন বলেন, ‘স্যার বাইরে গেছেন।

মাথিউরা সলমান উদ্দিন এসেছেন দলিল রেজিস্ট্রি করতে। কিন্তু সকাল থেকে তিনি দলিল রেজিস্ট্রি করতে না পেরে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, গত সপ্তাহেও এসেছিলাম, দলিল রেজিস্ট্রী করাতে পারিনী। আজও পারলাম না। তিনি বলেন, ব্যাংকে সবরকম টাকা জমা দেয়ার পরও এখানে নগদ টাকা দিতে হয়। এটা কোন ধরনের আইন বুঝতে পারছিনা। আমি টাকা দেইনা বলে দলিল রেজিস্ট্রি হচ্ছে না।

বিয়ানীবাজার দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন বলেন, দলিল প্রতি ১০ হাজার টাকা ঘুষ না দিলে সাব রেজিস্টার দলিল রেজিস্ট্রি নানা অজুহাতে আটকে দেন। সাংগঠনিক সম্পাদক সত্যজিৎ ভৌমিক বলেন, ‘সাব’ এখানে আসার পর খাস কামরা দিকের দেয়াল ভেঙ্গে একটি দরজা তৈরী করেন। অনৈতিকভাবে তৈরী করা এ দরজাটি দিয়ে সকল দালালরা সাব রেজিস্টারকে দিয়ে অনৈতিক কাজ করাচ্ছে।

বিয়ানীবাজার দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মুহিবুর রহমান বলেন, সাব রেজিস্টারের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ না হলেও আমরা কর্মবিরতী পালন করবো। তিনি বলেন, ঘুষ নেয়া বন্ধ, প্রধান ফটক অফিস চলাকালীন সময়ে খোলে রাখা, প্রিন্ট বা গেজেট পরছা চুড়ান্ত মেনে নিয়ে দলিল রেজিস্ট্রী করা, মহিলা কম্পিউটার অপারেটর রুমে তার দেহরক্ষী বসা বন্ধু করা, তিন দিন যথা সময়ে অফিস করা, দলিলে অব্যবহৃত পে-অর্ডার কোন ঝামেলা ছাড়া ভাঙ্গানোর ব্যবস্থাকরাসহ তাকে ৮ দফা লিখিত দাবি দিয়েছি। এসব দাবি মানলে আমরা কাজে ফিরবো।

এ বিষয়ে সাব রেজিস্টার লোকমান হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার অফিসে কোন সমস্যা নেই। দলিল লেখকদের কর্ম বিরতী, ঘুষ নেয়া ও দেহরক্ষী অফিসে আসার অভিযোগটি নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, এ নিয়ে আপনার সাথে দেখা করে পরে আলাপ করবো- এখন অফিসের কাজে ব্যস্ত রয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু: আসাদুজ্জামান বলেন, অফিসে দেহরক্ষী বা এ পর্যায়ে কাউকে নিয়ে আসা উচিত না। তিনি কেন দেহরক্ষী নিয়ে আসেন সেটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। তার দেহরক্ষী কেন লাগবে। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। এসব বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে দেখছি।